kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শাজাহান খানের নেতৃত্বে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শাজাহান খানের নেতৃত্বে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটি

ফাইল ছবি

সড়কে প্রাণহানি ও বিশৃঙ্খলা কমাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক পরিষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইনের বিষয়ে বিভিন্ন দাবি খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত কমিটিতে আরো আছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। এ ছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গাকে। তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আমরা অন্যদের থেকে পিছিয়ে থাকব না। কিছুটা সমস্যা এ ক্ষেত্রে আছে। আমার বিশ্বাস, সবার সহযোগিতায় আমরা পরিবহনের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।’ তিনি বলেন, সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে পরিবহন মলিক-শ্রমিকদের আপত্তির বিষয়ে ‘বাস্তবসম্মত’ সমাধান খুঁজতে আরো একটি কমিটি করা হয়েছে।

সড়কে দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। এ ছাড়া ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক ও শ্রমিক সমিতি থেকে দুজন, বিআরটিএ, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন কমিটিতে। এ ছাড়া রাখা হবে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি, ডিআইজি অপারেশনস ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারকে।

কমিটির সদস্য ওসমান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত বৈঠকে বসব, করণীয় নির্ধারণ করব ও প্রতিবেদন তৈরি করব।’

সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সে জন্য এ কমিটি ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। ওবায়দুল কাদের মনে করেন, এখন সড়ক পরিবহন খাতে বড় দুর্ভাবনার কারণ সড়ক দুর্ঘটনা।

নিরাপদ সড়ক দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। এটি এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। কারণ এই আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের জন্য পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে তারা আন্দোলন স্থগিত রাখে। নতুন সরকারের কাছে তারা দাবি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে, সড়ক দুর্ঘটনার সব মামলা জামিনযোগ্য করা, দুর্ঘটনায় চালকের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল করা, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করা, ৩০২ ধারায় মামলার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, পুলিশি হয়রানি বন্ধ, ওয়ে স্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল করা এবং গাড়ি নিবন্ধনকালে শ্রমিক ফেডারেশন প্রতিনিধির প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা। নতুন সড়ক পরিবহন আইনে ওই সব দাবিসহ বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করে বাস্তবায়নের জন্য গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটির অধীনে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে বিধিমালাও দেখা হবে। 

কমিটির কর্মপরিধির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই কমিটি আইন প্রয়োগ করতে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব কাজ করবে। এই আইনের বিধি এখনো হয়নি। তাই স্টেকহোল্ডারদের দাবির দিক বিবেচনা করে কিছু একটা করা যায় কি না, সেটা পর্যালোচনা করে দেখবেন কমিটির সদস্যরা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা নামিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যানজটের দিক দিয়ে বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ ২০৭টি শহরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ঢাকা। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সড়কমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কত রিপোর্ট বের হচ্ছে, টিআইবিরও একটি রিপোর্ট বের হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশকে যেভাবে চিত্রিত করা হয়েছে, এটা বাস্তব চিত্র নয়। বাংলাদেশের আজকের উন্নয়ন ও উচ্চতাকে খাটো করতে যারা ঈর্ষান্বিত, তাদের একটি সিন্ডিকেট এখানে কাজ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা