kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বই কিনুন বই পড়ুন

দীপংকর দীপক

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




বই কিনুন বই পড়ুন

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ধীরে ধীরে বাঙালি সংস্কৃতির মহোৎসব হয়ে উঠেছে। গত কয়েক যুগের ব্যবধানে বইমেলা হয়ে উঠেছে বাঙালির প্রাণের মেলা। লেখক-পাঠকের মহা মিলনমেলা।

এবার মেলার সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। এতে মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। মেলার পরিধিও অনেকটা বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ পথ বেশ প্রশস্ত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্টলের দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জাও মুগ্ধ করার মতো। বইমেলার সৌন্দর্য আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে স্বাধীনতাস্তম্ভ ও কৃত্রিম জলাশয়।

বইমেলায় এবারের নতুন সংযোজন ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ। এর সুবাদে লেখকরা তাঁদের বই নিয়ে পাঠকদের সঙ্গে ভাববিনিময় করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে এ মঞ্চ লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছি। তা ছাড়া মেলার শুরু থেকেই ‘শিশুপ্রহর’ জমে উঠেছে। শিশুরা এই বইমেলার মাধ্যমেই সাহিত্য পাঠে হাতেখড়ি নিচ্ছে। একই সঙ্গে এ মেলার মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ঘটছে।

তবে বই প্রকাশ নিয়ে প্রকাশকদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নবীন লেখকরা বই প্রকাশ করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে অনেক ‘সুবিধাবাদী প্রকাশক’ নতুনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। মেলা চলাকালে অনেক ‘মৌসুমি’ লেখককে দেখা যায়, পাঠকদের নির্লজ্জভাবে বই গছিয়ে দিতে। ফলে লেখকদের সৃজনশীলতার অহংকার নিয়ে ইতিমধ্যেই পাঠকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে অনেক পরিচিত পাঠক ‘বই উপহার’ চেয়ে লেখকদের বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলেন। পাঠকরা বুঝতে চান না, প্রকাশকদের কাছ থেকে ‘লেখক কপি’ ছাড়া অতিরিক্ত বই নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই পাঠকদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি বই কেনার অভ্যাসও গড়তে তুলতে হবে।

আমার পরিচিত কয়েকজন প্রকাশক জানান, এবারের মেলার পরিবেশ চমৎকার। বেচাকেনাও আশাব্যঞ্জক। আগামী দিনে বিক্রি আরো বাড়বে। তরুণরাই বেশি বই কিনছে। বিজ্ঞান ও অনুবাদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইয়ের প্রতিও পাঠকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। গল্প-উপন্যাসও বেশ চলছে। তবে সেদিক থেকে কবিতার বই তুলনামূলক কম বিক্রি হচ্ছে।

অর্ধশত বছর আগেও কলকাতাকে ঘিরে বাংলা সাহিত্য বিকশিত হয়েছে। কিন্তু সময় পাল্টে গেছে। বাংলাদেশ জন্মের পর ঢাকাকেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্য বিকাশ ও চর্চার জোয়ার শুরু হয়েছে। কয়েক দশক ধরে বাংলা সাহিত্য বিকাশের পথে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে অভাবনীয় সাফল্যে আমাদের এখন অনুসরণ ও অনুকরণ করছে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলা সাহিত্য এখন ভারতীয় উপমহাদেশ ছাপিয়ে বহির্বিশ্বেও প্রশংসিত।

২০০৬ সালে প্রথমবার একুশে বইমেলায় যাই। স্পষ্ট মনে আছে, মেলা প্রাঙ্গণে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে আমার গা শিউরে উঠেছিল। কারণ আমি মেলা প্রাঙ্গণকে পবিত্রতম স্থান বলে মেনে নিয়েছিলাম। প্রতিবছরের মতো এবারও আমার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘হে বঙ্গ’ শিরোনামের এ বইটি প্রকাশ করেছে মিজান পাবলিশার্স। দেশাত্মবোধক ৪১টি কবিতা নিয়ে এটি সাজানো হয়েছে। বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন সদ্য একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা।

প্রতিবছরই বইমেলার জন্য বড় ধরনের একটি বাজেট বরাদ্দ রাখি। এবারও রেখেছি। গত শুক্রবার ও শনিবার কয়েকটি বই কিনেছি। এসব বইয়ের মধ্যে রয়েছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘হস্তান্তর নয়, রূপান্তর চাই’, মুনতাসীর মামুনের ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘ফেলে যাওয়া রুমালখানি’, মোস্তফা কামালের ‘অগ্নিমানুষ’ প্রভৃতি। ছুটির দিনগুলোতে এভাবে মেলা থেকে পছন্দের বইগুলো কিনে সংরক্ষণ করে রাখব। পরে বছরজুড়ে এগুলো পড়ে শেষ করব।

পরিশেষে বলতে চাই, বই সর্বোত্কৃষ্ট বন্ধু। বই মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়। মননশীলতার সম্প্রসারণ ও জ্ঞানের গভীরতা বাড়াতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই বেশি বেশি বই কিনুন, সুযোগ পেলেই বই পড়ুন। অন্যকেও বই উপহার দিন, পড়তে উৎসাহিত করুন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা