kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

সবিশেষ

অস্ত্রোপচার করে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অস্ত্রোপচার করে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন!

মায়ের গর্ভ থেকে ছয় মাসের কন্যা ভ্রূণ বের করে তাক লাগিয়েছেন একদল চিকিৎসক। ওই ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রে অস্ত্রোপচার করে ফের তাকে রাখা হলো মায়ের গর্ভে। সন্তানটি পৃথিবীর আলো দেখতে চলেছে আগামী এপ্রিলেই। সম্প্রতি এই অস্ত্রোপচারের ঘটনা জানাজানি হয়েছে।

এসেক্সের বিথান সিম্পসনের গর্ভে থাকা ভ্রূণের বয়স যখন ২০ সপ্তাহ, তখন পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার মস্তিষ্কের গঠন ঠিকমতো হচ্ছে না। বিথানকে পাঠানো হয় এসেক্সের ব্রুমফিল্ড হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, গর্ভস্থ ভ্রূণটি জটিল স্নায়ুরোগের শিকার, যার নাম ‘স্পাইনা বিফিডা’। ভ্রূণের স্নায়ুনালি (নিউরাল টিউব) থেকে ভবিষ্যতে সুষুম্নাকাণ্ড (স্পাইনাল কর্ড) এবং মস্তিষ্ক তৈরি হয়। ‘স্পাইনা বিফিডা’ থাকলে স্নায়ুনালির গঠন ঠিকমতো হয় না। তাই সুষুম্মাকাণ্ড ও মস্তিষ্কের বৃদ্ধিও যথাযথ হয় না। এর ফলে জন্মানোর পর সারা জীবনের জন্য পঙ্গুও হয়ে থাকতে পারে শিশুটি।

ব্রুমফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরা সিম্পসন দম্পতিকে জানিয়ে দেন, হয় ভ্রূণটিকে নষ্ট করে ফেলতে হবে নয়তো ওই স্নায়ুনালির অস্ত্রোপচার করতে হবে। বিথান গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি লন্ডনে যেসব গর্ভস্থ শিশুর এই রোগ হয়, তাদের শতকরা ৮০ ভাগের কপালেই জোটে মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু যখন জানলাম, ওকে বাঁচিয়ে রাখার উপায় রয়েছে, আমরা অস্ত্রোপচারেই রাজি হয়ে গেলাম।’

ভ্রূণের বয়স যখন ২৪ সপ্তাহ, লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে ভর্তি হন বিথান। ব্রিটেন ও বেলজিয়ামের একদল সার্জন বিথানের গর্ভ থেকে ভ্রূণটিকে বের করেন। তার পরে সেটিকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রেখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

বিথান বলেন, ‘আমরা জানতাম, ওই অস্ত্রোপচারে ঝুঁকি আছে। কিন্তু সন্তানকে স্বাভাবিক জীবন দিতে ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম।’

বর্তমানে গর্ভস্থ ভ্রূণের বয়স আট মাস। বিথানের ভাষায়, ‘আমার পেটের ভেতরে ও ক্রমাগত লাথি মেরে চলেছে। একটা ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে ও।’

তবে বিথানই প্রথম নন, ব্রুমফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এসেক্সের ওই নারী ব্রিটেনের চতুর্থ মা, যাঁর গর্ভস্থ ভ্রূণের এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা