kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন দল গড়ার পক্ষে তরুণরা

রাজনীতি ছেড়ে সামাজিক কাজে মন দেবে জামায়াত

এম বদি-উজ-জামান   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন দল গড়ার পক্ষে তরুণরা

রাজনীতি ছেড়ে সামাজিক সেবামূলক কাজে নিয়োজিত হবে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ তরুণ নেতারা জামায়াতের নামে রাজনীতি না করার সিদ্ধান্ত জানানোর প্রেক্ষাপটে ভাঙন ঠেকাতে রাজনীতি না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং দলের মজলিসে শুরা সদস্য মুজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে তরুণ নেতারা দল ছেড়ে নতুন নামে দল গড়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন।

সূত্র মতে, ওই নেতারা একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি করার পক্ষে। তাঁরা একাত্তরে দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাদের কর্মকাণ্ডের দায় নিতে নারাজ। দল বিলুপ্তি ও ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। কয়েক দিন আগে ফেসবুকে একই রকম অভিমত তুলে ধরেন দলের মজলিসে শুরা সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু। সে কারণে গত শুক্রবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

জানা যায়, ভাঙনের মুখে পড়ে জামায়াত রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দল বিলুপ্ত করবে না। ভারতে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ যেভাবে রাজনীতি থেকে দূরে আছে, সেই আদলে সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং ইসলামের ‘দাওয়াতি’ কাজে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় দলটি। এ কারণে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধন ফিরে পেতে আর কোনো আইনি লড়াই চালাবে না জামায়াত।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমে বিবৃতি দিলেও ভাঙনপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এ বিষয়ে জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বশীল তাসলিম আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জামায়াতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন তার বাইরে আর কোনো কথা নেই। ওটাই আমাদের দলীয় বক্তব্য।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দল বিলুপ্ত করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জামায়াতে ইসলামী নামে দল থাকবে। তবে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের মতো আরো কেউ পদত্যাগ করলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যারা দল থেকে পদত্যাগ করবেন তাঁরা নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন বলেও জানান ওই নেতা।

জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমান মঞ্জু গতকাল শনিবার ফেসবুকে নিজেই নিজের বহিষ্কারের খবর জানিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘জামায়াতে রাজনৈতিক সংস্কারের যৌক্তিকতা, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ভূমিকা প্রসঙ্গে আমার সুস্পষ্ট মত ছিল যে

জামায়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমার এরূপ খোলামেলা মত নিয়ে জামায়াতের সম্মানিত নেতৃবৃন্দের মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।’

স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থানের কারণে স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর ১৯৭৯ সালের মে থেকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায় জামায়াত। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৫ বছরে দলটি জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নিয়েছে। ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত সব নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে নির্বাচন করেছে। কিন্তু হাইকোর্টে রায়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর সেই সুযোগ হারিয়েছে দলটি। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দলটির পাঁচ শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সোহবান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জামায়াত। এ ছাড়া ২০১৩-১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত নাশকতার মামলায় দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অনেক নেতা কারাগারে ও পলাতক। এমন প্রেক্ষাপটে দলের অভ্যন্তরে ‘সংস্কারের’ জন্য চাপ বাড়তে থাকে। দলের আমির মকবুল আহমেদ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় ‘সংস্কারপন্থীরা’ আবার সক্রিয় হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা