kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভোটকেন্দ্র নিয়ে ‘গণভোটের’ পরামর্শ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটকেন্দ্র নিয়ে ‘গণভোটের’ পরামর্শ

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের ভেতরে হবে, নাকি বাইরে—সে সিদ্ধান্ত নিতে গণভোটের পরামর্শ দিয়েছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের এ মঞ্চের প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এ গণভোটে অংশ নেবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ পরামর্শ দেন মঞ্চের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মঞ্চের মুখপাত্র মওদুদ মিষ্ট। তিনি বলেন, ‘একজন

উপাচার্যের কখনোই ডাকসুর সভাপতি পদে থাকা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের একটা সংগঠনের সভাপতি কিভাবে উপাচার্য হন? আপনারা জানেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপাচার্য চাইলেই ডাকসু নির্বাচন দিতে পারেন, আবার নাও দিতে পারেন। এটি মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানচর্চায় প্রতিবন্ধক, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

মওদুদ মিষ্ট বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার যে প্রক্রিয়া, তাতে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিরাই উপাচার্য হন। তাঁরা ক্ষমতাচর্চার জন্য একপেশে সিদ্ধান্তগুলো শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের এটা থেকে মুক্তি দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসুর প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে। নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন না। ডাকসু প্রতিনিধিদের রিকল করার কোনো নিয়মই গঠনতন্ত্রে নেই। ডাকসু নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে এর গঠনতন্ত্র পাঠ-পর্যালোচনা করা দরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু বিষয়ক রিটের আইনজীবী ব্যারিস্টার মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছর ডাকসু নির্বাচন হয়নি। কারণ উপাচার্যরা তাঁদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছেন। শুধু উপাচার্য চাইলেই অবশ্য ডাকসু নির্বাচন হবে না। এটা হওয়াও ঠিক নয়। এ জন্য ছাত্রদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আদালতে এমন কথাও উঠেছিল যে নির্বাচন হলে ক্যাম্পাসে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। তখন আমরা বলেছি, সংঘাত তো অনেক নির্বাচনেই হয়, তাই বলে কি নির্বাচন হয় না?’

উল্লেখ্য, শুরু থেকেই কয়েকটি ছাত্রসংগঠন ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো এ দাবির পক্ষে কোনো সাড়া দেয়নি।

মঙ্গলবারের মধ্যে ছাত্রলীগের প্রার্থী তালিকার নির্দেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করতে হবে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে। এই সময়সীমার মধ্যেই তালিকাটি আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে জমা দিতে হবে।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার এক বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডাকসুতে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির জন্য সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকা তৈরির পর তা ছাত্রলীগের ডাকসু নির্বাচন সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের কাছে জমা দিতে হবে। এ তালিকার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বদিউজ্জামান সোহাগ, সাইফুর রহমান সোহাগ, এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা