kalerkantho

পাকিস্তানি পদার্থবিদের নিবন্ধ

উন্নয়নে মগ্ন থাকায় এগিয়েছে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উন্নয়নে মগ্ন থাকায় এগিয়েছে বাংলাদেশ

রাজনীতি ও সামরিক নীতি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য খাত—সব বিষয়ে বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন পাকিস্তানের পদার্থবিদ পারভেজ হুদভয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম কারণ হলো, দেশটি অনেক প্রতিবন্ধকতার পরও উন্নয়ন থেকে দৃষ্টি সরায়নি। অন্যদিকে পাকিস্তান উন্নয়নের চেয়ে ভারতকে টেক্কা দিতে গিয়েই নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলছে।

গত শনিবার পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লেখেন হুদভয়। ‘কেন পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে তিনি লেখেন, ১৯৭১ সালের ‘শূন্য’ থেকে ২০১৮ সালে এসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারে। অন্যদিকে একই বছর পাকিস্তানের রপ্তানি আয় ছিল আড়াই হাজার কোটি ডলারেরও কম।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের উদ্ধৃতি দিয়ে এই পাকিস্তানি পদার্থবিদ বলেছেন, বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ (৩২০০ কোটি ডলার) পাকিস্তানের (৮০০ কোটি ডলার) চেয়ে চার গুণ বেশি। বাংলাদেশের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণও পাকিস্তানের অর্ধেকের চেয়ে কম।পাকিস্তানি পদার্থবিদ লিখেছেন, গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল চার কোটি ২০ লাখের মতো। ওই সময় পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল তিন কোটি ৩৭ লাখ। কিন্তু আজ বাংলাদেশের জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটি; আর পাকিস্তানের ২০ কোটি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় বাংলাদেশ এ সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতও অনেক এগিয়েছে। পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার অনেক কম। বাংলাদেশে টিকাদান খুবই সাধারণ ব্যাপার। পাকিস্তানের মতো সেখানে কেউ পোলিও টিকা খাওয়াতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় না। বাংলাদেশের গড় আয়ুও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশ কর্মজীবী নারীর হারের (৩৩.২ শতাংশ) ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের (২৫.১ শতাংশ) চেয়ে অনেক এগিয়ে।

দুই দেশের এসব পার্থক্যের কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, জনগণের উন্নয়ন পাকিস্তান সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। নীতিনির্ধারকরা সামরিক দিক থেকে ভারতকে টেক্কা দেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন। তিনি বলেন, সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি উদার।

পারভেজ হুদভয় লিখেছেন, পাকিস্তানের জন্য এসব শিক্ষণীয়। ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্রের দিক থেকে ভারতের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া অসম্ভব। ছাদের ওপর থেকে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে তলে তলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা সৌদির নির্দেশনা মেনে চলে আমরা কিছুই করতে পারিনি। পাকিস্তানকে অবশ্যই ‘যুদ্ধের অর্থনীতি’ বর্জন করে ‘শান্তির অর্থনীতির’ পথে হাঁটতে হবে। সূত্র : ডন।

মন্তব্য