kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বইমেলা এবং আমরা

মেহেদী আল মাহমুদ

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বইমেলা এবং আমরা

বইমেলার প্রবেশপথে মানুষের স্রোত দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল। স্টলগুলোর তাকে থরে থরে সাজানো নানা নামের, নানা রঙের বইগুলো হয়তো এই স্রোতের মানুষের জন্যই অপেক্ষায়। দেরি না করে আমিও স্রোতের সঙ্গে মিশে উৎসবের মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করি। বাতাসে উড়তে থাকা ধুলা নাক-মুখ ঘিরে ধরলে মাস্ক মুখে চাপিয়ে নিলাম। গত কবছর বইমেলায় প্রবল প্রতাপে ধুলার উপস্থিতির কথা মাথায় ছিল। সে কারণে ধুলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিয়ে মেলায় আসা।

প্রতিবছরই মেলা আকারে বাড়ছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় ভালো লাগল। গ্লাস টাওয়ার ও লেকটাকে মেলায় যুক্ত করায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টলে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত বইপ্রেমীরা লেকের পাশে বসে একটু জিরিয়ে নিতে পারবে।

মেলার দিনগুলোতে বিশেষ দুটি দিন। পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস। প্রিয়জনকে বই উপহার দেওয়ার জন্য এই দুটি বিশেষ দিনকে বেছে নিতে পারেন বইপ্রেমীরা।

মেলায় দেখা হলো তরুণ লেখক ইমন চৌধুরীর সঙ্গে। এবার তাঁর উপন্যাস ‘ডেকে যায় ফাল্গুনের রোদ’ প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্য দেশ থেকে। তিনি বললেন, ‘বইমেলায় রীতিমতো পাঠকের মেলা বসেছে। সব শ্রেণির পাঠকরা এসেছেন। বিশেষ করে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। মেলায় এলে বইয়ের প্রতি মমতা ও ভালোবাসা বাড়বে। সেটাই সবার আগে প্রয়োজন।’

ঘুরতে ঘুরতে একটি স্টলের সামনে দাঁড়ালাম। বেশ ভিড়। অনেকে বই দেখছেন। পাশে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিরপুর থেকে আসা ইমরান আরেফিন। তিনি বললেন, ‘ছুটির দিনে ভিড় বেশি হয় বলে মেলা এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করি। তার পরও কী মনে করে চলে এলাম। মানুষের বিপুল ভিড়ে বই হাতে নিয়ে দেখতে পারছি না। কিনতেও পারছি না।’

মেলায় ঘুরতে ঘুরতে একটু ক্লান্ত লাগলে পা বাড়ালাম ফুড কোর্টের দিকে। না, চা নেই। কোথায় পাওয়া যাবে জিজ্ঞেস করতেই ওয়েটার জানালেন, ‘এই মেলায় কোথাও চা পাবেন না। এমনকি বাংলা একাডেমির রাস্তায় গেলেও পাবেন না। চায়ের দোকানগুলো এবার তুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’

মনটা দমে গেল। এদের কাছে কফি আছে। চড়া দাম। দাম যা-ই হোক, চায়ের কাজ তো কফি দিয়ে হবে না। অগত্যা নতুন বইয়ের গন্ধ নিতে আবার স্টলগুলোর দিকে পা বাড়ালাম।

মেলার একটি বিষয় খুব ভালো লাগল। মেলার বিভিন্ন জায়গায় বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে লেখক-পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের জম্পেশ আড্ডা। অন্যদিকে লেখকদের মতামত প্রকাশের স্থান ‘লেখক বলছি’ ঘিরেও মেতে আছেন পাঠক-লেখক।

মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ আমার আকর্ষণের জায়গা। মেলায় এলে সেখানে একবার ঢু মারি। নতুন লেখকরা তাঁদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। তাঁদের গর্বিত মুখ দেখতে ভালো লাগে। মেলার মূল চত্বর ছেড়ে চলে এলাম সেখানে। একটি কবিতার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন চলছে। উন্মোচন শেষে মিষ্টি বিতরণ। একজন মন্তব্য করলেন, ‘অনেকেই এখানে আসেন মিষ্টি খাওয়ার লোভে।’

লেখক তাঁর বইয়ের সারসংক্ষেপ বলছিলেন। একপর্যায়ে বললেন, ‘ফেসবুকে বইয়ের প্রচার করেছি। সেসব পোস্টে সাত-আট শ লাইক পড়েছে। এই লাইকদাতারা যদি একটি করে বই কেনেন, তাহলে দ্বিতীয় মুদ্রণও শেষ হয়ে যাবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ, শুধু লাইক দিয়ে দায়িত্ব শেষ করবেন না। বই কিনে উৎসাহ দিন।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা