kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে বিতর্কিত প্রস্তাব

পাত্তাই পেল না বাংলাদেশকে সাহায্য বন্ধের ভাবনা

মেহেদী হাসান   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাত্তাই পেল না বাংলাদেশকে সাহায্য বন্ধের ভাবনা

ইসরায়েলকে সাহায্য বাড়াতে বাংলাদেশসহ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ১০টি দেশে সহযোগিতা বন্ধের আহ্বান টেকেনি যুক্তরাষ্ট্র পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘স্ট্রেন্দেনিং আমেরিকাস সিকিউরিটি ইন দ্য মিডিল ইস্ট অ্যাক্ট অব টু থাউজেন্ড নাইনটিন’ শীর্ষক অ্যাক্টটি ওই আহ্বান ছাড়াই গৃহীত হয়েছে।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত ওই আইনের খসড়া এ বছরের শুরু থেকেই সিনেটে হোঁচট খায়। প্রথমে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ১০টি দেশে সহযোগিতা বন্ধের কোনো প্রস্তাব ছিল না। তবে গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবটি নিয়ে নতুন করে ভোটাভুটির প্রাক্কালে কেন্টাকি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল বাংলাদেশসহ ১০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বন্ধের সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। পরদিন সেই সংশোধনী ছাড়াই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভায় অনুমোদনের জন্য বিবেচনাধীন আছে। প্রতিনিধি সভা তা অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিলটিতে স্বাক্ষর করলেই তা আইনে পরিণত হবে।

জানা গেছে, ওই প্রস্তাবে ১১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সাহায্য বন্ধের ওই উদ্ভট ভাবনা তুলে ধরা হয়েছিল। ‘ইসরায়েলে সহযোগিতা বাড়াতে বৈদেশিক সাহায্য কমানো’ শীর্ষক ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, ১৯৬১ সালের বৈদেশিক সহায়তা আইন এবং অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩ অনুচ্ছেদ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এই আইন প্রণয়নের তারিখ থেকে এবং ২০২৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তা বিলোপ হওয়া পর্যন্ত আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ইরাক, লিবিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সিরিয়া, তুরস্ক ও ইয়েমেন—এই ১০ দেশের কোনোটিকেই কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, এই ১০ দেশের মধ্যে তুরস্ক ছাড়া কারো সঙ্গেই ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

ওই প্রস্তাবের দ্বিতীয় অংশে ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের অন্য ধারায় যা-ই থাকুক না কেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরের (ইউএসএআইডি) প্রশাসক ওই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার তারিখ থেকে এবং ২০২৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তা বিলোপ হওয়া পর্যন্ত কোনো দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে গৃহীত ওই প্রস্তাবে কেন বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের নাম যুক্ত করার চেষ্টা চলছিল তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এই দেশগুলো মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ। যুক্তরাষ্ট্র এই দেশগুলোকে বড় ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে।

তা ছাড়া ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা বন্ধের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুধু দুই দেশের অংশীদারি জোরদারই নয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশকে অস্ত্র কেনারও প্রস্তাব দিয়েছেন।

ঢাকায় কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে গৃহীত ওই প্রস্তাবের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কূটনৈতিক সূত্রগুলোও ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশের নাম যুক্ত করার চেষ্টাকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছে।

জানা গেছে, সিনেটে গৃহীত ওই বিলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে তার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আরো সহযোগিতা ও অস্ত্র দিতে পারবে। এ ছাড়া জর্দানের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারবে।

সিরিয়া সংঘাত নিয়ে আরো বড় পরিসরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রয়েছে ওই প্রস্তাবে। ইসরায়েলকে বর্জনকারী দেশ বা গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এটি প্রয়োগ করতে পারবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে সামরিক অর্থায়ন এবং সামরিক খাতে ঋণ দিতে পারবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা