kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মোটা চালের দাম কমেছে, বেড়েছে হাঁসের ডিমের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোটা চালের দাম কমেছে, বেড়েছে হাঁসের ডিমের

নতুন বছরের শুরু থেকেই অস্থির চালের বাজার। ঢাকার বাজারে সরু চাল বাড়তি দামে স্থিতিশীল থাকলেও কিছুটা কমেছে মোটা চালের দাম। মুরগির ডিমের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে হাঁসের ডিমের দাম।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল সপ্তাহখানেক আগে ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা কেজিতে দুই টাকা পর্যন্ত কমে বাজারভেদে ৩৮-৪০ টাকায় এখন বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বিআর আটাশ চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে ৪২-৪৪ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে ৪৪-৪৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে দাম কমেনি সরু চালের। প্রতি কেজি সাধারণ মানের সরু চাল ৪৬-৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে একটু ভালো মানের সরু চাল ৫৫-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্যানুযায়ী, গত এক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন মানের সরু চালের দাম ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে।

রামপুরা বাজারের চাল বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি কেজি স্বর্ণা বিক্রি করছেন ৩৮ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে সেগুনবাগিচা, ফার্মগেট, গুদারাঘাটসহ বাড্ডার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দোকানে স্বর্ণা চাল ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোনো কোনো দোকানে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্য বাড্ডার মুদি দোকানি শরিফুল কালের কণ্ঠকে বলেন, চিকন চালের দাম একটু বাড়তি। পাইকারি বাজারে দাম কমবে শুনেছি, তবে এখনো কমেনি।

এদিকে সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎ করেই অস্থির হয়েছিল ফার্মের মুরগির ডিমের বাজার। যে সময় প্রতি হালি মুরগির ডিমের দাম উঠে গিয়েছিল ৩৬ টাকায়। তবে এখন বিভিন্ন খুচরা দোকানে ৩২-৩৪ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ডজন কিনলে কিছুটা খরচ বাঁচানো সম্ভব। কারণ প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। যদিও কিছু সুপারশপে এখনো ৩৬ টাকা হালি হিসেবে ডিম বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে বেড়েছে হাঁসের ডিমের দাম। প্রতি হালি ডিম বিভিন্ন বাজারে ৫৪-৫৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। সে হিসাবে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৪ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কয়েক দিন আগেও প্রতি হালি হাঁসের ডিম ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাঁসের ডিমের এই দাম বৃদ্ধির বিষয়ে যথাযথ কোনো ব্যাখ্যা ব্যবসায়ীদের কাছে পাওয়া যায়নি। তেজগাঁও ডিমের আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হানিফ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাঁসের ডিমের সঠিক কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। বলার মতো দেশে হাঁসের খামার রয়েছে কি না আমার জানা নেই। গ্রামাঞ্চল থেকেই মূলত ডিমের সরবরাহ হয় বলে জানি।’

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) কাছেও এ ডিমের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, শীত এলে হাঁসের ডিমের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু সরবরাহ সেভাবে বাড়ে না। কারণ সারা দেশের গ্রামাঞ্চল থেকেই ঢাকায় ডিম আসে। তাই পাইকাররা এ সময় ডিমের দাম বাড়িয়ে দেয়।

শীতের এই সময়ে সবজির ভরা মৌসুম। এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সবজির দামও স্থিতিশীল রয়েছে। দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। যদিও কয়েক দিন আগে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর একটা পাঁয়তারা দেখা গেছে। দেশি পেঁয়াজের ভরা মৌসুমের কারণে সেটাও কমাতে বাধ্য হয়েছে বিক্রেতারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা