kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অনাস্থা ভোটে উতরে গেলেও ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অনাস্থা ভোটে উতরে গেলেও ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা

ছবি: ইন্টারনেট

ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে অনাস্থা ভোটে উতরে গেলেও নতুন ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। অনাস্থা প্রস্তাবে গত বুধবার রাতে কোনো রকমে ৩২৫-৩০৬ ভোটে জয়লাভের পরপরই অচলাবস্থা কাটাতে তিনি ঘড়ির কাঁটা ধরে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর তিনি এ প্রচেষ্টা চালান। বৈঠকগুলোতে এমপিদের তিনি নিজ স্বার্থ পরিহার করে গঠনমূলক চিন্তার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিকল্প পরিকল্পনার বিষয়ে শর্ত আরোপ করে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে বিরোধীরা।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই টেরেসা মে জানিয়েছেন, তিনি আগামী সোমবার পার্লামেন্টে তাঁর ব্রেক্সিট চুক্তির প্ল্যান বি (বিকল্প পরিকল্পনা) উপস্থাপন করবেন। ব্রিটেনের গণমাধ্যমগুলো আশঙ্কা করছে, দ্বিতীয়বারও টেরেসা মের আশা ভঙ্গ করতে পারে পার্লামেন্ট। এ পরিস্থিতিতে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ তথা চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। আর সেটি ঘটলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইউরোপ ও ব্রিটেন দুই পক্ষই।

গত মঙ্গলবার ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসে তীব্র বিতর্কের পর ভোটাভুটিতে ২৩০ ভোটে হেরে যান টেরেসা মে। ৪৩২-২০২ ব্যবধানে এই ভোটের ফল ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ইতিহাসেই সরকারি দলের সবচেয়ে শোচনীয় পরাজয়। এতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিরও শতাধিক এমপি বিপক্ষে ভোট দেন। এর পরই বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন সুযোগ কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব তোলেন। কিন্তু বুধবার রাতের এ অনাস্থা প্রস্তাবে নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিরা ঠিকই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ভোট দেন, যাতে সরকার পড়ে যাওয়ার প্রত্যাশা পূর্ণ হয়নি লেবার নেতা করবিনের।

গত সোমবার পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিষয়ে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন সামনে রেখে বিরোধীদলগুলোকে আলোচনার আহ্বানের প্রেক্ষাপটে সহযোগিতার বিনিময়ে তারা এক গাদা দাবি উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবি হচ্ছে আগামী মার্চে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের প্রস্থান (ব্রেক্সিট) যেন কোনোভাবেই চুক্তিহীন (নো ডিল ব্রেক্সিট) না হয়।

গত বুধবার রাতে অনাস্থা প্রস্তাবে জয়লাভ করার পর প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘এমপিরা পরিষ্কার করে দিয়েছেন তাঁরা কী চান না। এখন পার্লামেন্ট কী চায়, তা নিরূপণ করতে অবশ্যই আমাদের গঠনমূলকভাবে একত্রে কাজ করে যেতে হবে।’ এর পরপরই তিনি স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট, ওয়ালস ন্যাশনালিস্ট ও ইইউপন্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির আলোচনায় বসার ঘোষণা দেন। তিনি লেবার পার্টিকেও বৈঠকে বসার আহ্বান জানান।

কিন্তু প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন জানান, যদি টেরেসা মে ‘নো ডিল ব্রেক্সিটের’ মতো বিপর্যয় আশঙ্কাকে দূর করেন, তাহলেই শুধু তিনি আলোচনায় বসবেন। তাঁর এ সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের দরজা খোলা থাকবে।’

এর আগে বুধবার রাতে মের মুখপাত্র জানান, নো ডিল ব্রেক্সিটের সম্ভাবনার বিষয়টিও আলোচনার টেবিলেই আছে। এ ব্যাপারে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেতা ইয়ান ব্ল্যাকফোর্ড বলেন, তাঁর দলও আলোচনায় বসবে, যদি তিনি (মে) ব্রেক্সিটের সময়সীমা পিছিয়ে দেন, ‘নো ডিলের’ সম্ভাবনা বাতিল করেন এবং দ্বিতীয় গণভোটের বিকল্প বজায় রাখেন। কিন্তু মে বরাবরই পরিষ্কার ভাষায় দ্বিতীয়বার গণভোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

টেরেসা মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ইইউ থেকে ব্রিটেনের প্রস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এই ইস্যুতে পার্লামেন্টে তাঁর পরাজয় ইউরোপীয় নেতাদের থেকে এই সতর্কতাই এলো যে এর মাধ্যমে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ আশঙ্কাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই পক্ষেরই মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

কিন্তু মের প্ল্যান বিও ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে। গতকাল গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মের বৈঠকের প্রস্তাব ফল বয়ে আনবে না। টেলিগ্রাফ লিখেছে, দ্বিতীয়বারও পার্লামেন্ট মেকে আশাহত করতে পারে।

টেরেসা মে গত বুধবার পার্লামেন্টে বিকল্প ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে দুটি বিষয় তুলে ধরেন। এর একটি হচ্ছে ইইউ-অভিবাসন সীমিত করা এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে স্বতন্ত্র বাণিজ্য নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া। কিন্তু এর মাধ্যমে লেবার দলের অভিন্ন ইইউ শুল্ক ও একক বাজারের প্রত্যাশা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। ফলে ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিরোধী দলের সঙ্গে ঐকমত্য কঠিন হয়ে পড়বে টেরেসা মের পক্ষে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা