kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পুলিশের বিরুদ্ধে এখনো উঠছে অভিযোগ

ওমর ফারুক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের বিরুদ্ধে এখনো উঠছে অভিযোগ

প্রতীকী ছবি

দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় দেখা গেল পুলিশের নির্ধারিত বাস স্টপেজে গিয়েই বাস থামছে। এ চিত্র আগের দিনও চোখে পড়েনি। তবে কয়েকজন বাসচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, তাঁদের অনেক অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। এক চালক বলেন, ‘যে কদিন পুলিশের তোড়জোড় থাকবে সড়কে শৃঙ্খলা থাকবে। এরপর আর থাকবে না।’ তিনি জানান, পুলিশ যত দিন সৎ না হবে তত দিন সড়কে শৃঙ্খলা আসবে না। পুলিশ যদি মনে করে কোনো গাড়ি আটকে টাকা আদায় করবে তাহলে তার কাগজপত্র থাকলেও কোনো না কোনো একটা অজুহাত দেখিয়ে টাকা নেবে। এ কারণে যারা চালকদের কাছ থেকে টাকা নেয় তাদের কথাও চালকরা শুনতে চায় না। তাঁর মতে, পুলিশ ভালো হয়ে গেলে ১০ দিনের মধ্যে সব অনিয়ম বন্ধ হয়ে যাবে।

ট্রাফিক পক্ষের দ্বিতীয় দিন গতকাল বুধবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মতিঝিল এলাকায় পরিবহনের মধ্যে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরতে দেখা গেছে। তবে চালকরা বলছেন, উন্নত যেটুকু হয়েছে তা সাময়িক। স্থায়ী সমাধান তখনই আসবে যখন ট্রাফিক পুলিশ নিজেরা ঠিক হয়ে যাবে।

গতকাল দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ট- ১৪-৯৯০২) যাত্রাবাড়ী মোড়ে আসে। যাত্রাবাড়ী মোড় পার হওয়ার চেষ্টার সময় সার্জেন্টসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গিয়ে ট্রাকের সামনে দাঁড়ান। এরপর ট্রাকটি সাইডে নেওয়া হয়। কাভার্ড ভ্যানটির দিনের বেলা চলাচলের অনুমোদন আছে কি না সে সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চায় পুলিশ। চালক মো. জুয়েল এসংক্রান্ত কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। পরে এই গাড়ির বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা রেকার জরিমানা করা হয়।

যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালনরত সার্জেন্ট মীর গোলাম সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ট্রাফিক পক্ষ শুরু হওয়ার পর পরিবহনে শৃঙ্খলা কিছুটা বেড়েছে। এখন আগের মতো অনিয়ম পাওয়া যায় না।’ কথা বলার সময়ই একজন মোটরসাইকেলচালকের কাগজপত্র আরেকজন সার্জেন্ট নিয়ে আসেন গোলাম সারোয়ারের কাছে। হেলমেট না পরার অপরাধে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি সাংবাদিক। কোন পত্রিকার সাংবাদিক জানতে চাইলে তিনি এমন একটি পত্রিকার নাম বলেন, যে নাম উপস্থিত কেউই শোনেননি। পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে যেদিক থেকে এসেছিলেন সেদিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ী মোড়ে দেখা যায় গ্রেট তুরাগ ও খাজা বাবা পরিবহন নামের দুটি বাস একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। খাজা বাবা পরিবহন যাত্রী পাওয়ার জন্য এমনভাবে বাসটি রাস্তার মধ্যে এনে রেখেছে, যাতে করে পেছনে থাকা গ্রেট তুরাগ বাসটি যেতে পারছিল না। একপর্যায়ে গ্রেট তুরাগ কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে খাজা বাবা পরিবহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা চালায়।

দুপুর ১টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে মিরপুরগামী ট্রান্স সিলভা নামের একটি বাস আসে। দেখা যায়, বাসের দরজা লাগানো নেই। বাসের চালক আলামিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মোড়ে যাত্রী উঠবো দেইখ্যা দরজা লাগানো নাই। যাত্রী ওঠানোর পর দরজা লাগাইয়া চালামু।’ পরে বাসটির পিছু নিয়ে দেখা গেছে যাত্রাবাড়ী থেকে সায়েদাবাদের দিকে যাওয়ার সময় দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

শুধু এ বাসই নয়, গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ওয়ারী, মতিঝিল, গুলিস্তান, শাহবাগ, বাড্ডা এলাকায় দেখা গেছে কিছু বাস দরজা বন্ধ করে চলাচল করছে। তবে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের সামনে দিয়ে লোকজনকে রাস্তা পেরোনোর চিত্র দেখা গেছে।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা