kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

পথচারীরা নিয়ম ভাঙছেই, সক্রিয় ট্রাফিক পুলিশ

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পথচারীরা নিয়ম ভাঙছেই, সক্রিয় ট্রাফিক পুলিশ

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা আনতে গতকালও তৎপর ছিল পুলিশ। ছবিটি গতকাল বনানী মোড় থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিকাশ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি এমন দ্রুতগতিতে ছুট লাগাল যে বোঝা গেল চালক পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট থেকে বাঁচতে চাইছেন। চালাকি করে চালক রেজাউল করিম বেশি দূর যেতে পারলেন না। সার্জেন্ট রাসেল দৌড়ে গিয়ে বাসটির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। এই প্রতিবেদক কাছে গিয়ে চালককে বলতে শোনেন, ‘স্যার, সকালে একটা মামলা খাইছি। আর এমন হবে না। হেলপারের দোষ। আমি কিছু যানি না।’ গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা কলেজের সামনে ট্রাফিক চেকপোস্টে এ দৃশ্য দেখা যায়। পরে চালকের ৪০০ টাকা জরিমানা হয়। জানা গেল, ট্রাফিক চেকপোস্টের কিছুদূর আগে মাঝপথে গাড়ি থমিয়ে যাত্রী তুলেছিল বিকাশ।

চালক রেজাউল কালের কণ্ঠকে বলেন, সকালে ঠিক একই কারণে ৮০০ টাকার একটি মামলায় জরিমানা গুনতে হয় তাঁকে। এতেও শিক্ষা হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকালে আমার ভুলে মামলা হয়। আর এখন হেলপারের বোকামির কারণে মামলা হলো। তবে আর এমন হবে না।’ চালক যখন এসব বলছিলেন সার্জেন্ট রাসেল তখন পাশ থেকে তাঁর কথা শুনতে পেয়ে বলেন, ‘প্রতিদিনই ওরা আইন অমান্য করে একই কথা বলে। একইভাবে গাড়ি চালায়। ধরা পড়লে বলে আজকের মতো ছেড়ে দেন। অনেক সময় মানবিক কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখন আর ছাড় নয়। ওদের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক হচ্ছে না। এতে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটছে।’

কথা শেষ করতে না করতেই একটি অটোরিকশা থামালেন সার্জেন্ট রাসেল। অটোরিকশার চালক ইয়াসিনের মুখ কালো। সার্জেন্ট তাঁর কাছে গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে দেখতে পান, ড্রাইভিং লাইসেন্সে ঘাপলা। তাঁকেও ৪০০ টাকার একটি মামলা দেন সার্জেন্ট। এভাবে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য বাস থামিয়ে বেশির ভাগ গাড়িতে কিছু না কিছু সমস্যা ধরা পড়ছিল। ঠিক একই সময়ে বাসগুলোকে দেখা যায় মাঝপথে থামিয়ে যাত্রী তুলে দ্রুত পালিয়ে যেতে।

দুপুর আড়াইটার দিকে সিটি কলেজের সামনে এসে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশ যখন বাস, প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেল থামিয়ে সমস্যা পেলে মামলা ঠুকছে, তখন পাশের ফুট ওভারব্রিজ এড়িয়ে বেশির ভাগ পথচারী ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। আরমান শেখ নামের একজন মধ্য বয়সী পথচারীর মুখোমুখি হলে তিনি অনেকটা রেগে বলে ওঠেন, ‘আপনে কে, আপনাকে জবাব দিতে হবে কেন?’ এই বলে দৌড়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই তিনি রাস্তা পার হন। সকাল থেকে এই সড়কের সব ফুট ওভারব্রিজে একই চিত্র চোখে পড়ে। মঙ্গলবার এই সড়কে একই চিত্র ছিল।

বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সামনে এগিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে চোখে পড়ে বাসগুলো কোনো ধরনের ট্রাফিক সিগন্যাল না মেনেই চলছে। গাড়ির দরজা খোলা, কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে উঠছে যাত্রীরা। সেদিকে ট্রাফিক পুলিশের খুব একটা নজর নেই। তবে মোটরসাইকেল দেখলেই থামিয়ে কাগজপত্র চেক করা হচ্ছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের চালকের হেলমেট থাকলেও তাঁর পেছনের সিটে বসা যুবকের মাথায় হেলমেট ছিল না। তবে তাঁর হেলমেটটি পেছনের সিটের সঙ্গে বাঁধা ছিল। এ কারণে যাত্রীকে ২০০ টাকা জরিমানা করেন সার্জেন্ট। এভাবে অন্তত ২০টি মোটরসাইকেলের পেছনের সিটে বসা নারী-পুরুষের হেলমেট না থাকার কারণে দুই থেকে চার শ টাকার জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাস থামালে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে সকাল থেকে এভাবে চলতে দেখামাত্রই অনেক বাস আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। এর পরও কিছু অনিয়ম রয়েছে। তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক ভালো। পর্যায়ক্রমে আরো উন্নতি হবে।’ তিনি অনেকটা অভিযোগের সুরে বলছিলেন, পথচারীরা এখনো ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করছে না। ট্রাফিক সিগন্যাল না মেনে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। গগতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত দেড় শতাধিক মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে গাড়িচালকদের আইন মানার অভ্যাস বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল দুপুর ১২টা থেকে নিউ মার্কেটের সামনে থেকে মিরপুর সড়ক ধরে সংসদ ভবনের সামনের ট্রাফিক মোড়, শ্যামলী, আসাদগেট, কল্যাণপুর বাসস্টান্ড হয়ে গাবতলী পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাফিক চেকপোস্ট। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে চতুর্থবারের মতো বিশেষ অভিযানে মাঠে নেমে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ব্যাপক তৎপরতা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা