kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বেপরোয়া বিআরটিসি বাস ও পথচারী

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেপরোয়া বিআরটিসি বাস ও পথচারী

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা। রাজধানীর খিলক্ষেতে ভিআইপি সড়কে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ সদস্যরা। ট্রাফিক সার্জেন্টদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন কনস্টেবলরাও। রয়েছেন পুলিশের নারী সদস্যরা। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ হলেই দেওয়া হচ্ছে মামলা। পুলিশ দেখে সতর্কভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন বেসরকারি পরিবহনের চালকরা। সুপ্রভাত, রাইদা, বিকাশসহ বেশ কয়েকটি  বাস নির্ধারিত জায়গায় দাঁড় করিয়ে উঠিয়েছে যাত্রী। হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেলচালক বা আরোহীও পড়েনি চোখে। এর মধ্যেই তীব্র শব্দে হাজির বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাস। রাস্তার প্রায় মাঝামাঝি জায়গায় বাস থামিয়ে যাত্রী নামালেও তৎপরতা চোখে পড়েনি কোনো পুলিশ সদস্যের। কোনো কারণ জিজ্ঞাসা করা হলো না। কিছুক্ষণের মধ্যে আরো কিছু যাত্রী নিয়ে বিমানবন্দরের দিকে চলে যায় বাসটি। ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কটিতে ফুট ওভারব্রিজ থাকলেও দল বেঁধে পার হচ্ছে পথচারীরা। পথচারীদের থামাতেও কোনো তৎপরতা দেখা গেল না পুলিশ সদস্যদের।

খিলক্ষেতের এই দৃশ্য দেখার পর বিমানবন্দর সড়ক হয়ে উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় গিয়েও দেখা যায় প্রায় একই চিত্র। হাউস বিল্ডিং এলাকায় পুলিশের নতুন সংযোজন মাইকিং। আইন মেনে গাড়ি চালাতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে নির্দেশনা। একই সঙ্গে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও প্রচার করা হয়। কিন্তু এমন সতর্কবার্তার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা গেছে পথচারীদের। কাছে ফুট ওভারব্রিজ থাকার পরও কেন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন এমন প্রশ্ন করলে বেশির ভাগ পথচারীই কোনো উত্তর দেয়নি। তবে আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই এলাকায় অনেক বেশি ধুলা। তাই দ্রুত পার হওয়ার জন্য ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করিনি।’ জীবনের ঝুঁকির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ঝুঁকি আছে জানি। তবে দেখেশুনে পার হই।’

হাউস বিল্ডিং এলাকায়ও মামলার ভয়ে বেশ সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে চালকদের। কদাচিৎ হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল এলেও রেহাই পায়নি মামলা থেকে। তবে মাইকে ঘোষণা এলেও কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি বিআরটিসি বাসের চালকদের। 

পুলিশের দাবি, আগের চেয়ে অনেক বেশি শৃঙ্খলা ফিরেছে সড়কে। বাসচালকরাও হয়েছে সচেতন। এ ছাড়া সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের আগে ও পরে চালকদের সতর্ক করতে রাখা হয়েছে তাঁদের।

হাউস বিল্ডিং এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইন অমান্য করলেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। তবে সড়কে অনেক শৃঙ্খলা ফিরেছে। বাসচালকরাও এখন পুলিশকে সহযোগিতা করছে।’

বিআরটিসি বাস সরকারি হওয়ায় তাদের ব্যাপারে কিছুটা সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে নিয়ম না মানা বিআরটিসি বাসরে চালকদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তাঁরা।

উত্তরা ট্রাফিক জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার জুলফিকার আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিআরটিসি বাস আসলেই অনেকটা বেপরোয়া। সরকারি বাস হওয়ায় মামলার ব্যাপারে আমাদের কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে বিআরটিসি বাসের চালকদের আইনের আওতায় আনা উচিত। কারণ আইন সবার জন্য সমান।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা