kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাংলামোটর কাকরাইল ও শাহবাগে রেকার

রেজাউল করিম   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলামোটর কাকরাইল ও শাহবাগে রেকার

মামলা শুধু নয়, গাড়ির সঠিক কাগজপত্র না থাকায় গতকাল বুধবার রাজধানীর কাকরাইল, শাহবাগ ও বাংলামোটর এলাকায় বহু গাড়ি আটক করে রেকারে করে নিয়ে যায় পুলিশ।

কাকরাইল মোড় এলাকায় সকাল থেকে শুধু দুপুর আড়াইটা পর্যান্ত ১৫টি বাস আটক করে রেকারে নেওয়া হয়েছে বলে জানান এই এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সিরাজুল ইসলাম।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এখনো গাড়িচালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা কম। দুপুর পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ৪০টি মামলা হয়েছে বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে।’ শুধু কাকরাইল এলাকা নয়, পাক্ষিক ট্রাফিক অভিযান উপলক্ষে গতকাল শাহবাগ, বাংলামোটর ও মগবাজার এলাকায় আরো কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায় রাজধানীর ট্রাফিক পুলিশ বিভাগকে।

গতকাল শুধু দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বাংলামোটর চেকপোস্টে মামলা হয়েছে প্রায় ৯০টি। রেকারে নেওয়া হয়েছে প্রায় ২০টি গাড়ি। সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আকতার হোসেন জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুয়ায়ী কঠোরভাবে কাজ করছে পুলিশ। কিছুটা সফলও হয়েছে।

শাহবাগে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরীফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলে, ‘জনগণকে কোনোভাবেই আইন মানতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। মামলা হচ্ছে সবাই জানে, তার পরও আইন লঙ্ঘন করছে। বিশেষ করে গণপরিবহনের আইন লঙ্ঘনের কথা বলেন তিনি। গতকাল দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২০টি বাস রেকারে নেওয়া হয়েছে। আর দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়েছে প্রায় ৮০টি।

তবে মঙ্গলবারের চেয়ে গতকাল মামলার পরিমাণ কম ছিল বলে এসব এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলেছেন, গত মঙ্গলবার অভিযান শুরু হওয়র পর গতকাল অনেকেই এ বিষয়ে জানতে পেরে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে। তবে গণপরিবহনের শ্রমিকরা এখনো সেভাবে আইন মানছে না।

মগবাজার এলাকায় অন্য দিনের তুলনায় গতকাল যানজট বেশি ছিল। স্থানীয় পানের দোকানি সোলায়মান শিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ট্রাফিক কর্মসূচির কারণে এখানে বেশি বেশি গাড়ি থামানো হচ্ছে। ফলে যানজট বাড়ছে।’ সেখানে দায়িত্ব পালনরত সার্জেন্ট এরশাদ বলেন, মগবাজার চেকপোস্টে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১০০ মামলা হয়েছে বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে। আর এই এলাকায় যানজটের কারণ হিসেবে তিনি রিকশাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, মগবাজার মোড় থেকে আদ-দ্বীন হসপিটালের দিকে একমুখী রাস্তা কেউ মেনে চলছিল না। উভয় দিক থেকেই রিকশা ও ছোট বাহন চলার কারণে মগবাজারে যানজট হচ্ছে। তবে যতটা সাধ্য রয়েছে সে অনুযায়ী কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

পুলিশের বিরুদ্ধেও তোলা হচ্ছে অভিযোগ। বাংলামোটর সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা গাবতলীগামী লাব্বাইক পরিবহনের সুপারভাইজার জহুরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক বাসের কাগজপত্র ঠিক নেই। সেই বাসের মালিকরা পুলিশের সঙ্গে অবৈধ গোপন চুক্তিতে লেনদেন করেন। কিন্তু ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে এই চুক্তির লেনদেন বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে গাড়ি আটকালেও কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়। ফলে এই অভিযানের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’

কাকরাইল মোড় এলাকার ব্যবসায়ী নাজমুল আহসান রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু পুলিশের পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নিলে হবে না। সবই তো সাধারণ মানুষের জন্য করছে পুলিশ। তাই সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। আইন মানার প্রবণতাও বৃদ্ধি করতে হবে নিজেদের মধ্যে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা