kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সবিশেষ

বেতার তরঙ্গ নিয়ে ধন্দে বিজ্ঞানীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বেতার তরঙ্গ নিয়ে ধন্দে বিজ্ঞানীরা

মহাজগতের বহুদূরের একটি ছায়াপথ থেকে আসা রহস্যজনক সংকেত পাওয়ার বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কানাডার একটি টেলিস্কোপে ওই সংকেত ধরা পড়েছে। তবে সংকেতের অর্থ বা কোথা থেকে সেটি আসছে, তা এখনো বিজ্ঞানীরা উদ্ধার করতে পারেননি।

এর মধ্যে ১৩টি দ্রুতগতির বিস্ফোরণের মতো বেতার শব্দ রয়েছে, যেটি বারবার ঘুরে ঘুরে আসছে। যেটিকে এফআরবি বলে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন। এই শব্দ প্রায় দেড় হাজার আলোকবর্ষ দূরের কোনো উৎস থেকে আসছে। এ ধরনের ঘটনা অতীতে আরো একবার ঘটেছে, সেটি আরেকটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে জানা গিয়েছিল।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইনগ্রিড স্টেয়ারস বলছেন, ‘এটা জানার পর আরো একবার এই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও কিছু রয়েছে। এ ধরনের শব্দ আরো পাওয়া গেছে এবং গবেষণার জন্য আরো উেসর সন্ধান মিললে আমরা হয়তো বুঝতে শুরু করব— এটি কোথা থেকে আসছে, আর কী কারণে সেটি উৎপন্ন হচ্ছে।’

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওকানাগান উপত্যকায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের চারটি অ্যান্টেনা নিয়ে শাইমি গবেষণাগারটি অবস্থিত, যেখানে এই সংকেত ধরা পড়ে। এই গবেষণাগার থেকে প্রতিদিন আকাশে অনুসন্ধান চালানো হয়।

গত বছর এই টেলিস্কোপ কাজ শুরু করার পর মহাবিশ্বের ১৩টি মহাজাগতিক বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছে, যার মধ্যে একটি কয়েকবার ফিরে ফিরে এসেছে। সম্প্রতি নেচার পত্রিকায় এই গবেষণার তথ্যটি প্রকাশিত হয়।

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীহর্ষ টেন্ডুলকার বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয়বারের মতো একটি সংকেতের পুনরাবৃত্তি পেয়েছি। দ্বিতীয় সংকেতটি একেবারে প্রথমটির মতোই ছিল।’

এফআরবি মানে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ বেতার তরঙ্গ, যা হয়তো মহাবিশ্বের আরেক প্রান্ত থেকে পৃথিবীতে পৌঁছাচ্ছে। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এ রকম ৬০টি একক, দ্রুতগতির বিস্ফোরণের বেতার তরঙ্গ শনাক্ত করতে পেরেছেন, যার মধ্যে দুটির পুনরাবৃত্তি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, প্রতিদিন আকাশে এ রকম সহস্রাধিক বেতার তরঙ্গ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কী কারণে এ রকম বেতার তরঙ্গ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে অনেক মতবাদ চালু আছে। এসব ধারণার মধ্যে আছে, শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র নিয়ে কোনো নিউট্রন তারকার খুব দ্রুত ঘূর্ণন, দুটি নিউট্রন তারকার একত্রে মিশে যাওয়া; আবার অনেকেই মনে করে, এগুলো ভিনগ্রহের প্রাণীর মহাকাশযান থেকে আসা তরঙ্গ হতে পারে। সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা