kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মির্জা ফখরুল বললেন

এজেন্ডা জানলে সংলাপে যাবে ঐক্যফ্রন্ট

প্রসঙ্গ সংলাপ

সিলেট অফিস   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এজেন্ডা জানলে সংলাপে যাবে ঐক্যফ্রন্ট

এজেন্ডা জানা গেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন করে সংলাপে বসার বিষয়টি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এজেন্ডা একটি—এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’

গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন সহিংসতায় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় নিহত এক ছাত্রদল নেতার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গতকাল সিলেট আসেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। 

প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ আহ্বান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সংলাপের আহ্বান কেন করেছেন আমি জানি না। তবে এটুকু বুঝি যে এই সংলাপ যদি গতবারের মতো সংলাপ হয় তাহলে সেই সংলাপ কখনই অর্থবহ হবে না।’ প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের এজেন্ডা কী—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমাদের এজেন্ডা তো একটাই, এই নির্বাচন বাতিল করতে হবে। পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।’ দাবি বাস্তবায়ন না

হলে সংলাপে বসবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নির্ভর করে তখনকার সময়ের ওপর।’ যদি এজেন্ডা পাওয়া যায় তবে সংলাপে বসবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদিও বলতে কিছু নেই। উনি কী চাচ্ছেন? কী দরকার? উনি যদি বোঝেন যে দেশের বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। এই নির্বাচন যেখানে জনগণকে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়নি। তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি জানাবেন, আমরা এই এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। তখনই আমরা চিন্তা করব।’

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘এই দখলদারি সরকার জনগণের অধিকারকে হরণ করে নিয়ে গেছে এবং তারা সংবিধানের লঙ্ঘন করেছে। জনগণের রায়কে তারা ডাকাতের মতো ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।’ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় সারা দেশে সবার চোখে-মুখে একটা শোকের চিহ্ন আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন অথবা মেয়র নির্বাচন—স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সরকারের পরিবর্তন ঘটায় না এবং জনগণের যে মূল বিষয় থাকে রাষ্ট্রের পরিচালনার দায়িত্ব সে দায়িত্বের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। সুতরাং এই নির্বাচনগুলো খুব একটা মুখ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় না।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার কোনো যোগ্যতা নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে নির্বাচন কমিশন এখন আছে তাদের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো। গোটা পৃথিবী, বাংলাদেশ দেখেছে যে কতটা অযোগ্য এই নির্বাচন কমিশন। যাদের কোনো যোগ্যতাই নেই একটি নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার, তাদের অধীনে নির্বাচন কী হবে সেটা নিয়ে এখন প্রশ্নের কোনো প্রয়োজন নেই।’ নির্বাচন অবশ্যই সব দলের অংশগ্রহণে হতে হবে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেটি নিয়ে আমরা আমাদের ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে খুব পরিষ্কারভাবে বলেছি যে বর্তমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করবার সুযোগ করে দিতে হবে।’ সংসদে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নির্ভর করবে পুরোপুরি সময়ের ওপর।’

জামায়াত বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতা ড. কামাল হোসেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ড. কামাল সাহেবের যে বক্তব্য এটা তাঁর নিজের বক্তব্য। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা এখনো এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করিনি। কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এটা সামগ্রিকভাবে উনার দলের বক্তব্য।’

ঐক্যফ্রন্ট, ২৩ দলীয় জোট এবং বিএনপির মধ্যে কোনো সমস্যা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট অটুট আছে। এতটুকু কোথাও কোনো সমস্যা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরস্পর পরস্পরের মধ্যে কিছুটা সমস্যা থাকতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। কারণ একেকটা একেক রকম রাজনৈতিক দল।’ তিনি আরো বলেন, ‘তবে সবার লক্ষ্য এক—জনগণের ভোটাধিকারকে নিশ্চিত করা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। হাজার হাজার নেতাকর্মী আছে যারা গ্রেপ্তার হয়ে আছে মিথ্যা মামলায়। সেগুলো প্রত্যাহার করা। এগুলো হচ্ছে এখন আমাদের প্রধান এজেন্ডা।’

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, মহাসচিব হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীক, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। 

সিলেটে পৌঁছে তাঁরা প্রথমেই হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যান। সেখান থেকে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সহিংসতায় নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমদ সুহেলের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় জাতীয় নেতারা ছাড়াও তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হওয়া খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ স্থানীয় নেতারা। বালাগঞ্জের নলজুড়ে নিহত ছাত্রদল নেতা সুহেলের বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে তাঁর কবর জিয়ারত করেন তাঁরা। এ সময় তাঁদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকার অনুদানও দেন মির্জা ফখরুল।

পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে শোকসভায় মির্জা ফখরুল ছাড়াও আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বক্তব্য দেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা