kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

উপজেলা পর্যায়ে ‘পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ’ চান নগর পরিকল্পনাবিদরা

শাখাওয়াত হোসাইন   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলা পর্যায়ে ‘পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ’ চান নগর পরিকল্পনাবিদরা

রাজধানী ঢাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বহুমুখী সমস্যায় পড়তে হয় নগর পরিকল্পনাবিদদের। এর অন্যতম কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মেগাসিটিতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা হাজারো স্থাপনা। এসব অপরিকল্পিত স্থাপনা টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সুষম এবং টেকসই উন্নয়নে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ’ চান পরিকল্পনাবিদরা।

তাঁদের মতে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ মোকাবেলায় দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মফস্বল এবং উপজেলা পর্যায়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনার বিষয়টি থাকতে হবে সব কটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার সঙ্গে অন্য শহরগুলোর যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবণায় থাকা প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থাকতে হবে সব কটি দলের ইশতেহারে।

এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আব্দুস সবুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলা ও জেলা শহরে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে বেশ আগে থেকেই। এসব শহরকে এখনই পরিকল্পনায় আনতে হবে। শহরগুলোতে অপরিকল্পিত স্থাপনা বেড়ে গেলে উন্নয়ন পরিকল্পনা কাজ করবে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ইশতেহারে উপজেলা এবং জেলা শহরের উন্নয়নে পরিকল্পনার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় ব্যাপক চাপ বাড়ছে। এই চাপ কমাতে ঢাকার পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত করার বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে থাকতে হবে।’

পরিকল্পনাবিদদের মতে, দেশের ৩০ শতাংশ লোক বাস করে শহরে। ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নগরকেন্দ্রিক হবে। এ ছাড়া জাতীয় আয়ের ৬০ শতাংশই আসে নগর থেকে। তাই দেশের নগরগুলো আরো সুপরিকল্পিত করতে খসড়া ‘নগর উন্নয়ন নীতি’ এবং ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন করার অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে দলগুলোকে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সব শহরে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে হবে দলগুলোর। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের সব কটি শহরের টেকসই উন্নয়নে নগর উন্নয়ন এবং পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর।

নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ সড়ক। দেশের বড় নগরগুলোতে যানজট ও দুর্ঘটনা প্রতিদিন হাজারো কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার থাকা উচিত ইশতেহারে। এ ছাড়া চলমান বাস্তবতায় নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকারটি।

এর অন্যতম কারণ আবাসন খাত বেসরকারীকরণ। নাগরিকদের আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় থাকা উচিত।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়নে আধুনিক নগরায়ণ জরুরি। জাতীয় অর্থনীতির চাকা স্বাভাবিক রাখতে ইমারত নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আবাসন খাত জনকল্যাণমুখী করা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে রাখা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিনিয়োগ আকর্ষণের পূর্বশর্ত। শুধু আইন করে এবং ইশতেহারে অঙ্গীকার করে আধুনিক নগরায়ণ সম্ভব নয়। বাস্তবে প্রয়োগ না করলে তা জনগণ ও রাষ্ট্রের কোনো উপকারে আসে না।’

মন্তব্য