kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

নির্বিঘ্ন নির্বাচনে আশাবাদী চীন

ঢাকায় সিম্পোজিয়ামে রোহিঙ্গা সংকটে চীনা ভূমিকার সমালোচনা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্বিঘ্ন নির্বাচনে আশাবাদী চীন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত চাং চুও। গতকাল শনিবার ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে সিম্পোজিয়াম শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওই আশা প্রকাশ করেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে চীন কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে কি না জানতে চাইলে ‘এখনো না’ বলে এড়িয়ে যান চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশিরা ও তাদের রাজনৈতিক দলগুলো এটি করতে পারবে।’

ব্যাবসায়িক অংশীদারি প্রসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও চীন পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল ও উন্নয়ন অংশীদার। এ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক ও অংশীদারি আরো বাড়ানোর ওপর জোর দেন। রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, তাঁর দেশ চীন সব সময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়।

এর আগে সিম্পোজিয়ামে চীনা রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেন একজন বক্তা। কসমস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ওই সিম্পোজিয়ামে পরে অন্য বক্তাদের বক্তব্যেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের ভূমিকা উঠে আসে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফসান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে চীন মিয়ানমারের পক্ষ নিয়ে এ দেশে তার জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। তিনি চীনের বিভিন্ন নীতি ও চর্চার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এ দেশে ভারতের স্বার্থ নিরাপত্তা। অন্যদিকে চীনের স্বার্থ ব্যবসা-বাণিজ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, প্রথমবারের মতো চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে বাংলাদেশে সব দলের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে এসে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা আড়াল করা যাবে না। তিনি বলেন, সত্তর বা আশির দশকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) নিপীড়িত ব্যক্তির রক্ষা পাওয়ার অধিকার ছিল না। এখন গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধ আড়াল করা যাবে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) চেয়ারম্যান ও চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশী ফয়েজ আহমেদ চীনা দূতাবাস প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, চীন যদি রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের দায়ে তার প্রতিবেশী মিয়ানমারের সমালোচনাও করে, তবেও মিয়ানমার চীনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। তাই তিনি চীনকে মিয়ানমার বা বাংলাদেশের স্বার্থের দিকে চিন্তা না করে মানবতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সিম্পোজিয়ামে কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতউল্লাহ খান, চীনের পিপলস ডেইলির ভারত ব্যুরোর প্রধান সাংবাদিক আন চিরোয়া, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লি টা বক্তব্য দেন।

সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চীনা রাষ্ট্রদূত চাং চুও বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার স্ট্র্যাটেজিক অংশীদারির আরো প্রসারে পাঁচ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি পারস্পরিক স্ট্র্যাটেজিক বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া তিনি নিরাপত্তা খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়, মানুষে মানুষে সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে আলোচনার তাগিদ দেন।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ মোটেও ব্যর্থ রাষ্ট্র নয়। আফ্রিকার দেশগুলোতেও শ্রম সস্তা। কিন্তু এর পরও তৈরি পোশাক পণ্যে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রটি বাংলাদেশ। আগামী ২০ থেকে ৫০ বছর পর অন্য এক সমৃদ্ধির বাংলাদেশ দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা