kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

জামায়াতকে কড়া বার্তা বিএনপির

জোট ছাড়া ভোট নয়

এম বদি-উজ-জামান   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জোট ছাড়া ভোট নয়

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতার বাইরে জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। জামায়াতের একটি সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় জোট মনোনীত জামায়াতের প্রার্থীদেরও জোটের ভোট হারাতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। এ ছাড়া জামায়াতকে আসনসংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে বিএনপি। এ পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের মনোনীত হিসেবে জামায়াতের ১৭ জনের প্রার্থিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা-১৫ আসনসহ ২৫টি আসনে জামায়াতকে ছাড় দেওয়া হলেও একটি আসনে (রংপুর-৫) তাদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ওই আসনটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক একটি দলকে দিয়েছে বিএনপি। ফলে ২৪টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী থাকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মনোনীত হিসেবে। বিএনপি গতকাল শনিবার রাতে জোটের যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তাতে জামায়াতের ১৭ জনের নাম রয়েছে।

২০ দলীয় জোটের মনোনয়নের বাইরেও ৩০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জামায়াতের নেতারা। তাঁদের মধ্যে আছেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২) ও সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (পটুয়াখালী-২)।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক কয়েকটি দলসহ বিভিন্ন মহল থেকে জামায়াতকে জোটের বাইরে রাখার দাবি উঠলেও বিএনপি ২০ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে জামায়াতকে ২৪ আসন ছেড়ে দিয়েছে। এর পরও বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। এ অবস্থার মধ্যে জামায়াত আরো বেশি আসন পেতে দেন-দরবার অব্যাহত রেখেছে। কোনো কোনো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে থেকে যাওয়ারও দাবি তাদের। কিন্তু জোটের সমর্থনের বাইরে দলটিকে ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি।

জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে বিএনপির মনোভাব আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি স্পষ্ট বলে দিয়েছে, জোটের বাইরে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী রাখা যাবে না। জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ভোট করলে সে ক্ষেত্রে জোট থেকে যে ২৪টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সেসব আসনে ভোটে প্রভাব পড়বে। ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে ঐক্যফ্রন্টের ভোট পাবেন না জামায়াতের প্রার্থীরা। আর যদি বিএনপির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হয় তাহলে তাদের ছেড়ে দেওয়া আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবেই আনুকূল্য পাবে জামায়াত।’

জানা গেছে, এ রকম শর্ত জুড়ে দেওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে জামায়াত। এর আগে অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরেও প্রার্থী ছিল জামায়াতের। এরই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় তারা। কিন্তু বিএনপির কঠোর মনোভাবের কারণে এবার তেমনটি করা সম্ভব হবে কি না সে নিয়ে সন্দিহান জামায়াতের নেতারা।

জামায়াতের প্রার্থী যারা : ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), আ ন ম শামসুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৫), হামিদুর রহমান আযাদ (কক্সবাজার-২), ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের (কুমিল্লা-১১), মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫), শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ (খুলনা-৬), মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪), আবদুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও-২), মোহাম্মদ হানিফ (দিনাজপুর-১), আনওয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর-৬), আজিজুল ইসলাম (নীলফামারী-৩), মাজেদুর রহমান (গাইবান্ধা-১), মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৫), অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫), মাওলানা হাবিবুর রহমান (সিলেট-৬), শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-১)।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা