kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

ছাত্রলীগ নেতা রাকিবের খুনিরা অধরা

কড়াইল বস্তিতে সজিবের মাদক সিন্ডিকেট

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কড়াইল বস্তিতে সজিবের মাদক সিন্ডিকেট

রাজধানীর বনানীতে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব ওরফে বোঁচা সজিব ও তার সহযোগী জসিম ধরা পড়েনি। পুলিশ বলছে, আসামিরা গাঢাকা দিয়েছে। তবে কড়াইল বস্তিবাসীর সংশয়, এবারও এই সন্ত্রাসীর বিচার হবে এমনটা তারা মনে করে না। কারণ এই সন্ত্রাসীকে বরাবর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে বনানীর কড়াইল বস্তিতে গিয়ে মাদক কারবারি সন্ত্রাসী বোঁচা সজিব সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। কড়াইল বস্তিকেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের এই হোতা একাধিক মামলার আসামি হয়েও দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় সংঘবদ্ধ এই মাদক সিন্ডিকেটের ব্যাপক দাপট। তাকে সহযোগিতা করছে পুলিশের কিছু সোর্সও।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনভুক্ত বনানীর মহাখালী এলাকায় পাশাপাশি কয়েকটি বস্তির মধ্যে কড়াইল বস্তি অন্যতম। পাশেই টিঅ্যান্ডটি কলোনি। এখানকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন রাকিব হোসেন। বৃহস্পতিবার রাতে এখানে খুন হন রাকিব। বোঁচা সজিব এর আগে তাঁকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। বিশেষ করে রাকিবের প্রেমিকাকে জবরদস্তি তুলে নিয়ে এই সন্ত্রাসী বিয়ে করার পর পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। তা ছাড়া এলাকায় রাকিবের মাদকবিরোধী অবস্থানও এই সন্ত্রাসীর জন্য ছিল বড় বাধা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অতীতে কয়েক দফা অগ্নিকাণ্ডের পর বেশ কিছু দিন ধরে বস্তির লোকজন নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। বস্তিতে ঢুকতেই চোখে পড়ে কাঁচা-পাকা সরু রাস্তার দুই পাশে সারি সারি দোকান। পিঠাপিঠি লাগোয়া খুপরি। অতিরিক্ত ঘন বসতি হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও পুরো বস্তিতে তল্লাশি না চালিয়েই ফিরে আসে।

আরমান নামে বস্তিবাসী এক মুরব্বি বলেন, ‘বস্তিতে প্রায়ই র‌্যাব-পুলিশ আসে। এর পরও মাদকের কারবার বন্ধ হয় না। আর মাদক কারবারিদের কারণে আমরা সারাক্ষণ ভয়ে থাকি। অনেক সময় মাদক কারবারিদের না ধরে বস্তির সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এই যে একটা খুন করে সন্ত্রাসীরা আপাতত আড়ালে রয়েছে, আবার সময়মতো বেরিয়ে আসবে। পেছনে শক্ত খুঁটি আছে। তাই এসব সন্ত্রাসীর সাজা হবে, এমন বিশ্বাস করা কঠিন।’

বস্তিবাসী আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ত্রাসী বোঁচা সজিব ছাড়াও জসিম, আহমেদ, মিলন, সিমা, পিন্টু, সোহেল, সালামসহ আরো অনেকেই বস্তিতে ইয়াবার কারবার করে। এদের অনেকেই আবার পুলিশের সোর্স হিসেবে ভালো মানুষ সেজে বস্তিতে থাকে। তারা একদিকে মাদক কারবারি অন্যদিকে বস্তির ফুটপাতের চাঁদাবাজ। এদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু রাজনীতিকের বিশেষ একটা সম্পর্ক রয়েছে। এরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে বস্তি থেকে লোকজন ভাড়ায় নিয়ে যায়। এ কারণে বস্তির সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, শ্রমিকসহ সব ধরনের লোকজন তাদের অনুগত। আর এ কারণেই দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে সাফল্য এলেও কড়াইল বস্তির মাদকসাম্রাজ্য বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধী সজিবসহ এজাহারভুক্ত আসামি জসিম ও অন্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। ঘটনার পরপরই তারা গাঢাকা দিয়েছে। সজিব ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সজিবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে এর আগে তাকে আটকও করা হয়েছে। জামিনে বেরিয়ে এসে সে রাকিবকে হত্যা করেছে।

এদিকে নিহত রাকিবকে গতকাল সকালে বরিশালের উজিরপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ সময় পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি স্থানীয় ও ঢাকা থেকে যাওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা