kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

দশম জাতীয় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াড-২০১৮

গণিত জয়ের আনন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণিত জয়ের আনন্দ

বুয়েট কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে গতকাল বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজিত জাতীয় স্নাতক অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীদের সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

৮০ জন প্রতিযোগী। তারা এসেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। একের পর এক গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে চলেছে তারা। একেকজন একেক সূত্র ব্যবহার করে সমাধান বের করছে। তাদের নেই কোনো গণিত ভীতি। বরং সবার চোখে-মুখে গণিত জয় করার আনন্দ।

প্রতিযোগীদের এমন প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অনুষ্ঠিত হলো দশম জাতীয় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াড-২০১৮-এর চূড়ান্ত পর্ব। বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন। আর বিশাল এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার কালের কণ্ঠ।

কথা হয় প্রতিযোগী কফিল ইবনে কামালের সঙ্গে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘গণিত নিয়ে আমার কোনো ভয় নেই। বরং এটা আমার কাছে এক প্রকার মজার খেলাই মনে হয়। তবে গণিত অলিম্পিয়াডে আসলে আমার গণিতের জ্ঞান কতটুকু, তা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা যায়। বিশিষ্ট গণিতবিদদের কাছ থেকে নতুন নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।’

জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে দেশের আটটি অঞ্চলে এই অলিম্পিয়াড শুরু হয়। প্রতিটি অঞ্চল থেকে ১০ জন করে মোট ৮০ জন গতকালের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সকালে বুয়েটের সেন্ট্রাল অডিটরিয়াম কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এরপর একটি শোভাযাত্রা বুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর শুরু হয় প্রতিযোগিতা। গতকাল বিকেলেই সমাপনী অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয় প্রতিযোগিতার ১০ জন বিজয়ীর নাম। প্রথম হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিক্সের শিক্ষার্থী এম ডি নীরব হোসেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষার্থী পার্থ সূত্রধর ও কফিল ইবনে কামাল। চতুর্থ থেকে দশম স্থান অধিকারীরা হলেন যথাক্রমে বুয়েটের সাদমান সাকিব, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এমডি সাইদুজ্জামান সাইদ, বুয়েটের সামিন সাদমান সাদ, বুয়েটের এমডি সাব্বির রহমান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নাজিম উদ্দিন, বুয়েটের মুনজারিন রেজা ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদ হোসেন। বিজয়ী প্রত্যেককে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ পুরস্কার।

এ ছাড়া একই অনুষ্ঠানে গত বছর বুয়েট থেকে এমএসসি ও এমফিল করা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ গ্রেডপ্রাপ্ত দুজন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় এ এফ মুজিবুর রহমান গোল্ড মেডেল। এমএসসিতে মো. আনোয়ার হোসেন ও এমফিলে মো. সুমন হোসেন এই পুরস্কার পেয়েছেন। এক ভরি ওজনের স্বর্ণের মেডেল ছাড়াও তাঁদের দেওয়া হয়েছে সনদ ও ৩০ হাজার টাকা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক মো. রফিক উল্লাহ বলেন, ‘এখন মেধাবী শিক্ষার্থীদের নানা ক্রাইটেরিয়া তৈরি হয়েছে। কিন্তু আগে মেধাবী বলতে যে গণিত ভালো বোঝে তাকেই বোঝাত। মানবজীবনের এমন কোনো দিক নেই যেখানে গণিতকে বাদ দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়। এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের গণিতচর্চায় আরো বেশি উত্সাহিত করবে।’

দশম জাতীয় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুনীবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘গণিত পড়ে কারো বেকারত্ব নেই। যে এই বিষয়টি ভালোভাবে আত্মস্থ করতে পারবে তার চাকরি হবেই। তাই আমরা সবাইকে গণিতে উত্সাহিত করতে চাই।’ এই আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্য তিনি এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।

এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি এম নুরুল আলম বলেন, ‘আগের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পদার্থ, রসায়ন ও গণিতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু এখন গণিত বিষয়টা অনেকটাই অবহেলিত। গণিত পড়তে শিক্ষার্থীদের উত্সাহ দিতে হবে। বাংলাদেশ একদিন এই উপমহাদেশের গণিতে নেতৃত্ব দেবে বলে আমি আশাবাদী।’

বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. অমূল্য চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘এই অলিম্পিয়াডের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশে গণিতের প্রচার ও প্রসার করা। শিক্ষার্থীদের কাছে যাতে গণিত আকর্ষণীয় ও আনন্দময় হয় সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।’

বুয়েটের অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম খান বলেন, ‘গণিতের কোনো বিকল্প নেই। গণিত ছাড়া কোনো জাতি এগোতে পারে না। যে গণিত জানবে সে পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাক না কেন তাকে আলাদা মূল্যায়ন করবে। গণিত ও ইংরেজি যদি কারো মাথায় থাকে তাহলে তাকে কেউ আটকাতে পারবে না।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. সালমা পারভীন, অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল আলম সরকার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ উদ্দিন প্রমুখ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা