kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

মাদক ছেড়ে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে

কনক হাঁটলেন হাজার কিমি

নাটোর প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




মাদক ছেড়ে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে

আরিফুর রহমান কনক। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৯৭ সালে ডিপ্লোমা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। এরপর দুবাইয়ে সাড়ে তিন বছর, সিঙ্গাপুরে এক বছর ও সৌদি আরবে পাঁচ বছর চাকরি করেছেন। তবে দীর্ঘ কর্মজীবনের ১৯ বছর তাঁর নিয়মিত সঙ্গী ছিল মাদক। যেখানেই গিয়েছেন মাদক জোগাড় করে সেবন করেছেন। যতবার বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন, কোনো না কোনোভাবে মাদকের ব্যবস্থা করেছেন। এরই মধ্যে দুই বছর হলো কনকের বাবা মারা যান। তার পর থেকে কমতে থাকে কনকের মাদক সেবন। ভাবতে থাকেন, আঘাতে ভেঙে পড়া যাবে না। খাদে পা পড়লে সেখান থেকেই উঠে দাঁড়াতে হবে। গত ১৬ জানুয়ারি কনকের দ্বিতীয় সন্তান জন্মের তিন দিন পর মারা যায়। এবার কনক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ঘোষণা দিলেন, ‘আর না। নতুন করে জীবন শুরু করতে হবে।’ তারপর কোনো দিন মাদক স্পর্শ করেননি কনক। শুধু তাই নয়, আর কোনো জীবন যেন মাদকে শেষ না হয়—সেই ব্রত করে তিনি নেমেছেন লড়াইয়ে।

মাদকের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ‘মাদককে না বলুন, স্লোগান নিয়ে পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ পৌঁছেছেন  আরিফুর রহমান কনক। গত ১২ অক্টোবর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় পতাকা হাতে তিনি টেকনাফ জিরো পয়েন্টে পৌঁছান। কনক নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সাজামালঞ্চি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। এলাকাবাসী একদিন কনককে অপছন্দ করত তাঁর মাদক বদভ্যাসের কারণে। তবে বাগাতিপাড়ার মানুষই এই সাফল্যে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

কনক মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, মাত্র ৩৫ দিনে পায়ে হেঁটে প্রায় হাজার কিলোমিটার পথ তিনি পাড়ি দিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ হাঁটতেন। ভোর ৬টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত হেঁটেছেন। প্রতি ১০ কিলোমিটার পর পর ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম নিতেন। রাতে যেখানে হাঁটা বন্ধ হয়ে যেত ওই এলাকায় পরিচিত কেউ থাকলে তাঁর বাসায় উঠে যেতেন। সে রকম কাউকে না পেলে নিজ খরচে হোটেল ভাড়া করে রাত্রী যাপন করতেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘পথে আমি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পথঘাট, চায়ের দোকান, বাজারসহ জনবসতি এলাকার মানুষকে মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছি। আমার এই হাজার কিলোমিটার পথ চলায় যদি একজন মানুষও মাদক থেকে দূরে সরে আসে সেটাই হবে আমার বড় পাওয়া।’

বিভিন্ন মহল থেকে কনকের এই কর্মকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেছেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পায়ে হেঁটে বাগাতিপাড়ার সন্তান আরিফুর রহমান কনকের এ যাত্রা প্রশংসার দাবিদার।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা