kalerkantho

সাক্ষাৎকার

ঢাকা লিট ফেস্ট নজরে এসেছে আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলের

কাজী আনিস আহমেদ

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা লিট ফেস্ট নজরে এসেছে আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলের

গতকাল বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে তিন দিনের ‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮’। অষ্টমবারের মতো বাংলাদেশে এ আসর আয়োজিত হলো। দেশি-বিদেশি সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠকদের মিলনমেলা বলা হয় ঢাকা লিট ফেস্টকে। ঢাকা লিট ফেস্টের অন্যতম পরিচালক কথাসাহিত্যিক কাজী আনিস আহমেদ, যিনি একাধারে একজন কথাসাহিত্যিক, উদ্যোক্তা, প্রকাশক ও সংগঠক। ২০১২ সালে তাঁর প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘গুড নাইট, মিস্টার কিসিঞ্জার অ্যান্ড আদার স্টোরিস’

বাংলাদেশে প্রকাশ করে ইউপিএল, যা পরে ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দ্য আননেমড প্রেস প্রকাশ করে। এর আগে ২০১৩ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন মাই হ্যান্ডস’ প্রকাশ করে ভিনটেজ র‌্যানডম হাউস। কাজী আনিস আহমেদ একই সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রকাশক। তিনি ঢাকা ট্রান্সলেশন সেন্টারেরও একজন প্রতিষ্ঠাতা। কাজী আনিস আহমেদ ঢাকা লিট ফেস্ট ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে।  

কালের কণ্ঠ : শুরুতেই আপনার উপন্যাস ‘THE WORLD IN MY HANDS’ প্রসঙ্গে আসি। এ উপন্যাসের প্রধান নায়ককে মনে হয়েছে সময়। বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য ১/১১ খুবই আলোচিত একসময়। এ সময়টিকে কেন্দ্র করেই উপন্যাস লেখার তাগিদ বোধ করলেন কেন?

কাজী আনিস আহমেদ : ১/১১ চলাকালেই আমার মনে হয়েছিল, এটি একটি বিশেষ এবং বিকৃত মুহূর্ত, যার অণুবীক্ষণ জরুরি। এ ধরনের একটি অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আমাদের ‘সুশীল সমাজ’ যে রকম উৎসাহে সমর্থন দেয়, সেটিকে আমার উপন্যাসের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত বিষয়বস্তু বলে মনে হয়েছে। যে সময়টি উপন্যাসে ধারণ করা হয়েছে, আমার কাছে যথার্থ মনে হয়েছিল।

কালের কণ্ঠ : এবার আপনার একটি উদ্যোগ ঢাকা ট্রান্সলেশন সেন্টার নিয়ে কথা বলতে চাই। এই উদ্যোগ আপনি নিয়েছেন আমাদের সাহিত্যকে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এটি বাস্তবায়ন করতে কী কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে?

কাজী আনিস আহমেদ : এ কাজটি আমরা যখন শুরু করি তখন উপযুক্ত অনুবাদকের অভাব আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছিল। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসা পুরনো-নতুন অনেক অনুবাদকের কল্যাণে অনেকটা কাটিয়ে ওঠা গেছে। কিন্তু সাহিত্যের আকর্ষণীয় পীঠস্থান হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতির অভাবই আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।

কালের কণ্ঠ : আপনি ঢাকা লিট ফেস্টেরও অন্যতম উদ্যোক্তা। এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য কিংবা বাংলাদেশের সাহিত্য কতটা লাভবান হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? 

কাজী আনিস আহমেদ : ঢাকা লিট ফেস্টের কারণে আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে বিশেষত ইংরেজি-ভাষী জগতে বাংলাদেশ এখন একটু হলেও নজরে এসেছে। অনেক বড় প্রকাশক, সম্পাদক, পত্রিকা বা বিপণন সংস্থা এখন সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নাম শুনলে ভ্রু কুঁচকায় না। পরিচিতির এই প্রথম ধাপ থেকে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন আমাদের লক্ষ্য।

কালের কণ্ঠ : শেষ প্রশ্ন, আপনি কথাসাহিত্যিক, গবেষক, ব্যবসায়ী, দুটি পত্রিকার প্রকাশ। একই সঙ্গে একজন সফল সংগঠক ও উদ্যোক্তা। এই যে কাজের এত বিস্তার, এসব মিলিয়ে বাংলাদেশকে আপনি ঠিক  কোন জায়গায় দেখতে চান?  

কাজী আনিস আহমেদ : বাংলাদেশের ক্রমাগত যে উন্নয়ন হচ্ছে তাতে আমি খুবই গর্বিত। এই উন্নয়নের ধারা আরো জোরদার হবে, এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী। কিন্তু একই সঙ্গে গত দুই দশকে সমাজ হিসেবে আমাদের সহনশীলতা অনেক কমেছে, যা আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। বিভিন্ন অতি কড়া আইন ও রাষ্ট্রের অযথা কঠোর আচরণ থেকে শুরু করে সামাজিকভাবেও আমাদের সমাজে হিংসাত্মক হওয়ার প্রবণতা খুবই দুঃখজনক। আমি দেখতে চাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ যেমন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে তেমনি সাংস্কৃতিকভাবেও উদার ও সহনশীল একটি সমাজে পরিণত হবে।

মন্তব্য