kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

ঢাকায় ৩২৮ পৌরসভার কর্মচারীদের অবস্থান

► শহরে শহরে চলছে ভোগান্তি
► বগুড়া, পাবনা, চাঁপাইয়ে জমছে ময়লার স্তূপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকায় ৩২৮ পৌরসভার কর্মচারীদের অবস্থান

বেতন-ভাতার দাবিতে গতকাল সচিবালয়ের সামনে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করে পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়ার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় গতকাল বুধবার চতুর্থ দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন দেশের ৩২৮টি পৌরসভার কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। গতকাল সচিবালয়ের পশ্চিম পাশের দুটি গেটে গিয়ে অবস্থান নেন তাঁরা। নিজ নিজ পৌরসভার কার্যালয় বন্ধ রেখে এই আন্দোলনে যাওয়ার ফলে পৌরসভাগুলোতে মারাত্মক নাগরিক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বগুড়ার ১২টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি, পাবনাসহ ৯টি পৌরসভা এবং সারা দেশের পৌরসভাগুলোতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমছে। পানি সরবরাহ, টিকাদান কর্মসূচি, পৌর কর, ট্রেড ও জন্ম সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ—

ঢাকা : ঢাকায় গত রবিবার থেকে টানা তিন দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবস্থানের পর গতকাল চতুর্থ দিন সকাল ১০টায় সচিবালয়ের পশ্চিম পাশের গেট দুটিতে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে এক ঘণ্টা আন্দোলন শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। প্রেস ক্লাবের চারপাশে ছোট ছোট ছাউনি বানিয়ে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়েছেন। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ‘আমাদের নিয়োগ’ সরকারি। বদলি এবং শাস্তিও দেয় সরকার। কিন্তু বেতন দিচ্ছে পৌরসভা। এ নীতি চলতে পারে না। বেতন-ভাতার অভাবে সরকারি কর্মচারী হয়েও আমরা আর্থিক, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের এ যৌক্তিক দাবি না মেনে নেওয়া হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চলবে।’

অবস্থান কর্মসূচিতে ‘মাস শেষে বেতন নাই, এ কেমন চাকরি ভাই’, ‘দেখ কত জ্বালা, পৌরসভায় তালা’, ‘মা জননী হাসিনা, বেতন ছাড়া বাঁচি না’—এ রকম নানা স্লোগানের প্ল্যাকার্ড আন্দোলনকারীদের বহন করতে দেখা যায়।

বগুড়া : কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বগুড়া পৌরসভাসহ জেলার ১২টি পৌরসভার কার্যালয়ে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এতে পৌরসভার নাগরিকরা জরুরি সেবা পাচ্ছে না। ময়লার স্তূপ জমছে শহরজুড়ে। গতকাল বগুড়া পৌরসভা ভবনের সব দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গড়া দেশের অন্যতম বড় বগুড়া পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের চেয়ে আয়তনে ও জনসংখ্যায় বড় বগুড়া পৌরসভার কর্মচারীরা চার দিন ধরে কর্মবিরতিতে থাকায় নানামুখী দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে।

শুধু বগুড়া পৌরসভা নয়, পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকার কারণে জেলার আরো ১১টি পৌরসভার রাস্তা সংস্কার কাজ, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ড্রেনেজ পরিষ্কার কাজ, জমির খাজনা, লাইসেন্স, টিকাদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে নাগরিক সেবা ভেঙে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার পৌর এলাকার। রাতে সড়কবাতি জ্বলছে না। এরই মধ্যে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেনগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ডাস্টবিনগুলো ভর্তি হয়ে আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তায়। চলাচলের সময় দুর্গদ্ধে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। পানির অভাবে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে চার পৌরসভার কয়েক লাখ মানুষ।

একই অবস্থা বিরাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্য তিন পৌরসভা শিবগঞ্জ, রহনপুর ও নাচোলে। এ তিন পৌরসভায়ও নানা দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তরিকুল ইসলাম জানান, পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছয় মাস থেকে এক বছরের মতো বকেয়া। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলন করছেন তাঁরা।

পাবনা : পাবনা জেলার ৯টি পৌরসভার প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গতকাল দুপুরে পাবনা পৌরসভায় গিয়ে পৌর ভবনের বেশির ভাগ বিভাগ বন্ধ দেখা যায়। কয়েকজন কাউন্সিলর ও দু-একজন কর্মকর্তাকে তাঁদের নির্ধারিত কক্ষে অলস সময় পার করতে দেখা যায়। কর্মবিরতির কারণে পৌর এলাকায় চলমান সাতটি ড্রেনের কাজ বন্ধ রয়েছে।

পাবনা পৌরসভার ইপিআই সুপারভাইজর কামরুন্নাহার জলি জানালেন, লাগাতার কর্মবিরতির কারণে পৌরসভার স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তিনি জানালেন কর্মবিরতির কারণে নিয়মিত টািকাদান কর্মসূচিও বন্ধ রয়েছে।

পাবনা পৌরসভার মতো প্রায় একই চিত্র ছিল জেলার ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর পৌরসভাগুলোতেও।

মন্তব্য