kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে বন্দুক হামলা নিহত ২৯

আইএসের দায় স্বীকার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে বন্দুক হামলা নিহত ২৯

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরে গতকাল সামরিক কুচকাওয়াজের মধ্যে সন্ত্রাসী হামলা হলে আতঙ্কিত লোকজন মাটিতে শুয়ে পড়ে। ছবি : এএফপি

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশে এক সামরিক কুচকাওয়াজে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, নিহতদের মধ্যে বেসামরিক লোকজনও রয়েছে। আহত হয়েছে ৫৭ জন। ১৯৮০-র দশকে ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে এই কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরান সরকার এই হামলার জন্য ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের দায়ী করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, হামলার পেছনে ‘একটি বিদেশি সরকারের’ সমর্থিত ‘সন্ত্রাসীরা’ ছিল। ‘ইরান আঞ্চলিক সন্ত্রাসের সমর্থকদের ও তাদের প্রভু যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী বলে ধরে নিয়েছে।’ এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই সন্ত্রাসীদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও অর্থের জোগান দিয়েছে বিদেশিরা।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা হামলার জন্য সুন্নি জঙ্গি বা আরব জাতীয়তাবাদীদের দায়ী করেছে।

অবশ্য জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) গতকালই ওই হামলার দায় স্বীকার করে। তাদের মুখপত্র আমাক এ কথা জানায়। আমাক বলে, আহভাজ শহরের হামলাটি আইএসের যোদ্ধারা চালিয়েছে। তবে এই দাবির সপক্ষে জঙ্গিগোষ্ঠীটি কোনো প্রমাণ দাখিল করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তাঁর ওয়েবসাইটে হামলার মদদদাতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘যারা এই সন্ত্রাসীদের গোয়েন্দা ও আদর্শগত মদদ দিয়েছে তাদের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’ এর আগে তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাদ্দাম হোসেনের মতো ভাগ্যবরণ করে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।’ রুহানি আরো বলেছেন, ‘ইরান প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র প্রত্যাহার করবে না। এমনকি যেসব ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আমেরিকার ক্ষোভ আছে, সেগুলোও নয়।’

ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সিরও (আইআরএনএ) এক খবরে দাবি করা হয়, সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-আহভাজ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। বলা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছে আল-আহভাজ।

ফার্স বার্তা সংস্থা জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এ হামলা শুরু হয়। হামলাকারীরা মোট চারজন ছিল বলে তারা বলছে। সংবাদদাতারা জানান, হামলাকারীরা সামরিক উর্দি পরে ছিল এবং পাশের একটি পার্ক থেকে কুচকাওয়াজের ওপর গুলিবর্ষণ করে। তারা প্রথমে বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালায় এবং পরে পোডিয়ামের ওপর দাঁড়ানো সামরিক অফিসারদের দিকে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। পুরো ঘটনাটি ঘটতে সময় নেয় প্রায় ১০ মিনিট।

আহভাজের ডেপুটি গভর্নর আলী হোসেন হোসেনজাদা জানান, নিরাপত্তা বাহিনী দুজন অস্ত্রধারীকে হত্যা করেছে এবং অন্য দুজনকে জীবিত আটক করেছে।

নিহতদের মধ্যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বাহিনীর আটজন সদস্য এবং একজন সাংবাদিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইরানে গত বছর যে কয়টি শহরে বড় মাপের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল তার মধ্যে আহভাজ একটি। ইরানের আরব সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদে মদদ দেওয়ার জন্য তেহরান সরকার এর আগে প্রতিবেশী সৌদি আরবকে দায়ী করেছে।

এদিকে শনিবারই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ দিয়ে বলেছেন, ‘সাদ্দাম হোসেনের মতো ভাগ্যবরণ করে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।’ রুহানি আরো বলেছেন, ইরান প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র প্রত্যাহার করবে না। এমনকি যেসব ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আমেরিকার ক্ষোভ আছে, সেগুলোও নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে থাকা পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এবং গত মাসে দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরিপ্রেক্ষিতে হাসান রুহানি এই মন্তব্য করলেন। এবার সামরিক কুচকাওয়াজে বন্দুকধারীর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব ও এর মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের মনোভাব আরো আক্রমণাত্মক হবে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : সিএনএন, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা