kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

সংসদে বিল পাস

মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে ভাতা পাবেন স্ত্রী বা স্বামী পিতা-মাতা-ভাই-বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে ভাতা পাবেন স্ত্রী বা স্বামী পিতা-মাতা-ভাই-বোন

মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে সম্মানী ভাতাসহ সরকারি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন স্ত্রী বা স্বামী। আর তাঁদের অবর্তমানে সুবিধা ভোগ করবেন পিতা-মাতা। তাঁরাও না থাকলে সুবিধা পাবেন ছেলে-মেয়েরা। তাঁদের কেউই না থাকলে সুবিধা পাবেন মুক্তিযোদ্ধার ভাই-বোনেরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৮’-এ এমন বিধান রাখা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিলটি পাসের প্রস্তাব উপস্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলের ওপর বিরোধী দলের জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়, যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সোয়া দুই লাখেরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে পরিবারের সদস্যরা এ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদেরও এই প্রথম মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে ট্রাস্টি বোর্ড, নির্বাহী কমিটি গঠনের পাশাপাশি তহবিল পরিচালনা, নিরীক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বিলে বলা হয়েছে, ‘একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা ছাড়াও নিচের (ক থেকে ঝ) উল্লিখিত ব্যক্তিগণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন। (ক) মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ব্যক্তি বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, (খ) যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী ও নাগরিক একই সময়ে বিদেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠন করেছেন, (গ) যাঁরা মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী-দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, (ঘ) সশস্ত্র বাহিনী, গণবাহিনী ও অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর, নৌ কমান্ডো, আনসার বাহিনীর সদস্য যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, (ঙ) মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজিবনগর সরকারের সহিত সম্পৃক্ত তৎকালীন এমএনএ (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) ও এমপিএগণ (মেম্বার অব পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি), যাঁরা পরে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হন, (চ) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসরদের সহযোগী কর্তৃক নির্যাতিত (বীরাঙ্গনা) নারীগণ, (ছ) স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়গণ এবং (ঝ) মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী মেডিক্যাল টিমের চিকিৎসক, নার্স ও সহকারীরা।

আরো তিনটি বিল পাস : গতকাল জাতীয় সংসদে আরো তিনটি বিল পাস হয়েছে। বিল তিনটি হচ্ছে—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিল-২০১৮, পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প শ্রমিক (চাকরির শর্তাবলী) বিল-২০১৮ এবং কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট বিল-২০১৮।

মন্তব্য