kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বললেন

যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই

ওমর ফারুক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যেতে চান। তিনি বলেন, ‘বাস মালিক ও লঞ্চ মালিকদের অনেকে সংসদ সদস্য। তাঁরা চাইলে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু একজন যাত্রী যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে তাঁর কষ্টের কথা কি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারেন? আমরা যাত্রী কল্যাণ সমিতি থেকে এই যাত্রীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের কাজ অব্যাহত রাখতে চাই। যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই।’

তিনি আরো জানান, মিরপুর থানার ওসি দাদন ফকির তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৪০টি মামলা দেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার রাতে সদ্য কারামুক্ত যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে এসব কথা জানান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, মুক্ত হওয়ার পর অনেক মানবাধিকারকর্মী, দেশের বিশিষ্টজন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা তাঁকে সাহস না হারানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা তাঁর পাশে আছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর সারা বাংলায় আমার জন্য মানুষ দোয়া করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছে। আমি সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়েছি। যাত্রী কল্যাণ সমিতি মানুষের সমর্থন পেয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে যে সাধারণ মানুষ সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখতে চায় না। তাই আমি যাত্রী কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা করলে আমি আমার কাজ অব্যাহত রাখতে চাই।’

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি বেশ অসুস্থ। আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর এক দিন রিমান্ডসহ তিন রাত থানাহাজতে থাকতে হয়েছে। এই তিন রাত আমি ঘুমাতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি মামলার বাদী দুলালকে আমি চিনি না। কোনো দিন দেখিওনি। শুনলাম বাদী নিজেই বলেছেন, তিনি আমাকে চেনেন না।’

তিনি আরো বলেন, “রাত ৩টার সময় পুলিশ আমার বাসায় যায়। আমি জানতে চাই কেন আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে? এ সময় এসআই বজলুর রহমান বলেন, ‘ডিসি স্যারের নির্দেশে আপনাকে যেতে হবে।’ ওই মামলার এজাহারে আমার বাবার নাম ও ঠিকানা ছিল অজ্ঞাত।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যাতে সক্রিয় থাকতে না পারি, এ জন্যই মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হয়েছে।’ তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে ২০১১ সালে তাঁকে রাখা হয়েছিল। ওই সময় সরকার প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া নির্ধারণ করে এক টাকা ৭০ পয়সা। পরে তাঁদের প্রতিবাদের কারণে এক টাকা ৪০ পয়সায় আনা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে আন্তজেলা বাসভাড়া নির্ধারণ কমিটিতেও মোজাম্মেলকে রাখা হয়। বাসভাড়া বাড়ালে এর প্রতিবাদ করতেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণের সময় তাঁদের ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে তাঁদের আর মন্ত্রণালয় থেকে ডাকা হয়নি।

এর পরও তাঁরা থেমে ছিলেন না। যেখানেই যাত্রীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গিয়েছে, তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শায়েস্তা করতে না পারলে আমরা হৈচৈ করব, এ কারণেই এসব হচ্ছে বলে আমি মনে করি।’

মোজাম্মেল হক বলেন, মালিকরা শুল্ক কমিয়ে গাড়ি কেনার সুযোগ পায়। কিন্তু যাত্রীরা কী পায়? যাত্রীদের অধিকার রক্ষা করাটা জরুরি। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের স্বার্থে কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পেলে যাত্রীসেবার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ভালো কিছু অর্জন করতে চাই।’

তিনি আরো জানান, তাঁকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসা থেকে মিরপুর থানায় নিয়ে যাওয়ার পর একপর্যায়ে ওসি দাদন ফকির বলেন, ‘আমি জামায়াত-শিবির করি। আমি দুর্ঘটনার বিষয়ে মিডিয়াতে যে তথ্য দেই সেগুলো ভুয়া। আমার বিরুদ্ধে ৪০টি মামলা দেওয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। তবে নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করি।’

মুক্তি পাওয়ার পর মোজাম্মেল হক তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় কতিপয় পরিবহন দুর্বৃত্ত ও এই সেক্টরের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ৯ দিন কারাভোগের পর আজ (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেছি। আমার মুক্তির জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মাননীয় বিচারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দেশব্যাপী আলোচিত চাঞ্চল্যকর মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আমাকে জামিন দেওয়ায় ন্যায়বিচারের পথে একধাপ এগিয়েছে বলে আমি মাননীয় বিচারকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। দুঃসময়ে আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য গণমাধ্যমের অকৃত্রিম বন্ধুদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। যাঁরা সামাজিক গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে লিখেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং আমার প্রিয় দেশবাসী মা-বোন যাঁরা আমার জন্য অকাতরে দোয়া করেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

মন্তব্য