kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নাজিরপুরে জাতীয় শোক দিবসে অংশগ্রহণ

‘এমপির নির্দেশে’ হাজিরা খাতায় সই দিতে পারছেন না কলেজ প্রদর্শক

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘এমপির নির্দেশে’ হাজিরা খাতায় সই দিতে পারছেন না কলেজ প্রদর্শক

পিরোজপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ‘অপরাধে’ উপদলীয় কোন্দলের শিকার হয়ে বেতন-ভাতা বন্ধের উপক্রম হতে যাচ্ছে এক কলেজ প্রদর্শকের (ডেমনস্ট্রেটর)। কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে গেলেও তাঁকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ মহসিন সিকদার। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের প্রদর্শক। এ ছাড়া তিনি নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মালিখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

মোহাম্মদ মহসিন সিকদার ২০০১ সাল থেকে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের প্রদর্শক পদে কর্মরত। এ কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল।

জানা গেছে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত ৩১ আগস্ট শুক্রবার আলোচনাসভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ। এমপি আউয়ালের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত তাঁর আপন ভাই পিরোজপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মালেকের সমর্থনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন মাটিভাঙ্গা কলেজের ভুক্তভোগী প্রদর্শক মহসিন সিকদার।

কলেজ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহসিন সিকদার কয়েক শ নেতাকর্মী নিয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এ খবর পেয়ে এমপি আউয়ালের নির্দেশে মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম ওই অনুষ্ঠানে যেতে প্রদর্শক মহসিন সিকদারকে নিষেধ করে দেন। তিনি মহসিনকে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে গেলে তাঁর ক্ষতি হবে। কিন্তু মহসিন অধ্যক্ষের বাধা উপেক্ষা করে ওই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। পরের দিন ১ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে মহসিন যথারীতি কলেজে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে গেলে অধ্যক্ষ তাঁকে স্বাক্ষর করতে দেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারেননি প্রদর্শক মহসিন। 

এ ব্যাপারে মহসিন বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শোকসভায় গিয়েছি। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলে এমন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এমপি সাহেব। তাই এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো ছুটি নিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর শোকসভার জন্য নয়, বরং সে অনিয়মিত বিধায় তাকে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি মহসিনকে এমপির নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি।’

অধ্যক্ষের অভিযোগের ব্যাপারে শিক্ষক মহসিন বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক কারণে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি নিয়মিত ক্লাসে যাই, তার প্রমাণ শ্রেণিকক্ষের খাতায় আছে এবং ১৩ দিন আগে হাজিরা খাতায় আমি নিয়মিত স্বাক্ষর করতে পেরেছি।’

এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে গতকাল রাতে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রদর্শক মহসিনকে অ্যাবসেন্ট (গরহাজির) করার বিষয়ে তাঁর নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কথা আমি বলিনি, কোনো নির্দেশ দিইনি।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবসে যাওয়ার বিষয়ে নিষেধের কথাটাও ঠিক না। আমি তো জামায়াতের লোক না যে ১৫ আগস্টের ব্যাপারে বিরোধিতা করব।’

এমপি আওয়াল আরো বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি জেনেছি, সে (মহসিন) নিয়মিত না। সে অনিয়মিতভাবে কলেজে আসে, আবার দেরিতেও আসে। আমি সভাপতি হিসেবে অধ্যক্ষকে বলে দিয়েছি, যে-ই দেরিতে আসবে, তাকে স্বাক্ষর করতে দেওয়া যাবে না। এ কথা আমি সবার জন্যই বলেছি। তার একার জন্য না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা