kalerkantho

টেলিযোগাযোগ খাতের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল

সাড়ে সাত বছরে আদায় ১৪০০০ কোটি টাকা

► ব্যাংকের সুদ যোগ হয়েছে আরো ৩০০ কোটি টাকা
► তিনটি প্রকল্পে ৭০০-৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত

কাজী হাফিজ   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাড়ে সাত বছরে আদায় ১৪০০০ কোটি টাকা

মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে (এসওএফ) জমা হয়েছে এক হাজার ৪১২ কোটি ৫৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৮ টাকা। ব্যাংকে জমা রাখা মূল এই টাকায় সুদ যোগ হয়েছে ৩০০ কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে এসওএফ ব্যবস্থাপনা কমিটির চাহিদা অনুসারে হস্তান্তর করা হয়েছে ১৭০ কোটি ১৩ লাখ ৯ হাজার টাকা। বাকি এক হাজার ৫৫৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৯ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা রয়েছে।

বিটিআরসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, এই টাকা সোনালী ব্যাংকে মেয়াদি আমানত হিসেবে জমা থাকবে এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা যথাসময়ে যথাযথভাবে সরবরাহ করা হবে।

এই তহবিলে ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে গত জুন মাস পর্যন্ত গ্রামীণফোনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৭৩৭ কোটি ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৫ টাকা। রবি দিয়েছে ৩২৭ কোটি ৬৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং বাংলালিংক থেকে পাওয়া গেছে ২৮৩ কোটি ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫ টাকা। এ ছাড়া রবির সঙ্গে একীভূত হওয়ার আগে এয়ারটেল ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দিয়েছে ৫৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ২২২ টাকা। বন্ধ থাকা মোবাইল অপারেটর সিটিসেল ২০০১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দিয়েছে ছয় কোটি ৯৬ লাখ ৯ হাজার ৪১৬ টাকা এবং সরকারি মোবাইল অপারেটর  টেলিটক ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে দিয়েছে দুই কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬৫ টাকা। সোনালী ব্যাংকের শিল্প ভবন করপোরেট শাখায় এই টাকা জমা রয়েছে। কিন্তু এ টাকা কী কী কাজে ব্যয় করা হবে তা তহবিল গঠনের পর সাড়ে সাত বছরেও নির্ধারণ করা হয়নি।

দেশে প্রথমবারের মতো টেলিযোগাযোগ খাতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে ২০১১ সালে গঠন করা হয় এসওএফ এবং ওই বছরের নভেম্বর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল অপারেটরদের বার্ষিক আয়ের ১ শতাংশ এই তহবিলে জমা নেওয়া শুরু হয়। টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ তহবিল গঠন করা হয়। এরপর তহবিলের অর্থ ব্যবহারের জন্য ২০১২ সালে বিধিমালার খসড়া তৈরি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এটির অনুমোদন দেয় সরকার।

সম্প্রতি সরকার এই তহবিল থেকে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রকল্পে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গত বছর এই তহবিল থেকে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগকে। তবে ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব আইসিটি নেটওয়ার্ক টু রিমোট এরিয়াস (কানেক্টেড বাংলাদেশ)’ শীর্ষক প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহে এই বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা ব্যয় হয়নি।

এসওএফ তহবিল বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সেবা দিতে এই তহবিলের আংশিক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চর-দ্বীপ এলাকায় স্যাটেলাইট সেবা, দুর্গম এলাকায় টেলিটকের মাধ্যমে মোবাইল ফোন সেবা ও ৪৩৬টি দুর্গম ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। তিনি জানান, গত বছর আইসিটি বিভাগকে যে টাকা দেওয়া হয়েছিল তা ফেরত এসেছে। সম্ভাব্য অন্য প্রকল্পে এসওএফের টাকা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রকল্প প্রস্তুতসহ বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, একসময় এসওএফের টাকার একাংশ দিয়ে বিটিআরসির দুর্যোগ মোকাবেলা বা ব্যবস্থাপনার জন্য স্যাটেলাইট ফোন কেনার চিন্তা-ভাবনাও ছিল। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস এই তথ্য জানিয়ে বলেছিলেন, বিটিআরসির কাছে এই ফোনের স্টক থাকবে। এই ফোন প্রয়োজনীয় সময়ে সামরিক বাহিনী এবং এনজিওকর্মীরা ব্যবহার করবে। এ ছাড়া দেশে বিভিন্ন ধরনের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজেও এ টাকা ব্যয় করা হতে পারে।

২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডমেস্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ডিএনসিসি) ২৪তম সভায় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের একটি অংশের টাকা আইসিটি বিভাগের ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পে দেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এর আগে ২০১৬ সালে এসওএফের ৬০০ কোটি টাকার এফডিআর বন্ধক দিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণের টাকায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পের ব্যয় মেটানো হয়।

মন্তব্য