kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়ছে

জয়ন্ত ঘোষাল, নয়াদিল্লি থেকে   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়ছে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গতকাল মঙ্গলবার বলে দিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু করাটা মানুষের হাতে থাকে, কিন্তু সেটা কখন শেষ হবে সেটা মানুষের হাতে থাকে না। ইমরান বলেন, ‘আশা করি, ভারতের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তা না হলে পাকিস্তান একবারের জন্যও চিন্তা করবে না পাল্টা আঘাত হানতে।’ 

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল বেনারসে জনসভা করেছেন। ইমরান কী বলেছেন তা তিনি জেনে গিয়েছিলেন ওই সভায় ভাষণ দেওয়ার আগেই। কিন্তু ইমরানের বক্তব্য নিয়ে মোদি নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন সেনা সদস্যের

প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে ইমরান খানের বিবৃতি উড়িয়ে দিয়ে ‘বিশ্বজুড়ে অপপ্রচার’ বন্ধ করে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছে। ইমরান খান ওই হামলার নিন্দা না করায় তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে বিবৃতিতে।

অন্যদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর গতকাল ইমরানের হুমকির প্রতিবাদে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করতে জানি। পাকিস্তানকে এর ফল ভোগ করতে হবে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান জাতিসংঘের কাছেও নালিশ জানিয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে। গত সোমবার ইমরান খান বৈঠক করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে। ওই বৈঠকে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বিবাদ মেটানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

সৌদি যুবরাজ গতকাল ইমরানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি করলেও ভারতবিরোধী অবস্থান নেবেন না।

পাকিস্তান কিন্তু সীমান্তে সেনা তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভারতও পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে তৈরি হয়েছে এক প্রবল অনিশ্চয়তা।

এদিকে এনডিটিভি জানায়, জম্মু কাশ্মীরে কাউকে অস্ত্র হাতে দেখলেই গুলি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। গতকাল শ্রীনগরে সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং রাজ্য পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর কোর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কানওয়ালজিৎ সিং ধিলেস্নাঁ বলেন, ‘আমি জানাতে চাই, পুলওয়ামা হামলার ১০০ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান থেকে পরিচালিত জৈশ-ই-মহম্মদকে উপত্যকা থেকে সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা হয়েছে। যে কেউ হাতে অস্ত্র তুলবে, তাকেই গুলি করে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। উপত্যকায় কোনো রকম নাশকতা বরদাশত করা হবে না। এতে সন্দেহ নেই যে ওই হামলার পেছনে জড়িত পাকিস্তানি সেনা আর আইএসআই। জৈশ পাকিস্তানি সেনার সন্তানমাত্র।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা