kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

প্রদর্শনী

মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ নিদর্শন

নওশাদ জামিল   

২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ নিদর্শন

জাতীয় জাদুঘরে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ছবি : কালের কণ্ঠ

১৯৭১ সালের ৮ জুন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান শিরোনাম—‘শকুনে কুকুরে লাশ নিয়ে কাড়াকাড়ি’। খবরের সঙ্গে বড় করে ছাপা হয়েছে একটি ছবি। তাতে দেখা যায়, হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত বাঙালির লাশের স্তূপ। লাশের ওপর হামলে পড়েছে শকুন ও কুকুর।

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নানা গণহত্যার প্রমাণাদি ছড়িয়ে গোটা মিলনায়তনে। কোথাও মাথার খুলি, কোথাও হাড়-কঙ্কাল। শুধু গণহত্যা নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত নানা অস্ত্র রয়েছে প্রদর্শনীতে। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ সব আলোকচিত্র। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনে থরে থরে সাজানো রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি-নিদর্শন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সম্ভার নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয়েছে এমন বিশেষ প্রদর্শনী।

স্বাধীনতার মাসে জাতীয় জাদুঘরের সংগ্রহে থাকা মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ স্মারক নিদর্শন ও আলোকচিত্র নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এই প্রদর্শনীর। তাতে স্থান পেয়েছে ১২৭টি নিদর্শন ও স্মারক। ভারত সরকার সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের কিছু নিদর্শন ও আলোকচিত্র উপহার দিয়েছে জাতীয় জাদুঘরকে। সেখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত নানা অস্ত্র। রয়েছে পদক ও আলোকচিত্র। প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে ভারতের উপহার দেওয়া নানা স্মারকও।

প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, বিশাল মিলনায়তনের এক অংশে থরে থরে সাজানো রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত প্রায় ২৫টি অস্ত্র। রয়েছে একটি দুই ইঞ্চি মর্টার, একটি ১০৬ এমএম রিকয়েলেস অ্যান্টি ট্যাংক গান, একটি ৪০ এমএম আরপিজি অ্যান্টি ট্যাংক গান, একটি রকেট লঞ্চার, সাত দশমিক ৬২ এমএম স্নাইপার রাইফেল, ব্রেন গান মার্ক টু, সাত দশমিক ৬২ এমএম রাইফেল, সাত দশমিক ৬২ সেলফ লোডিং রাইফেল, বেলজিয়ামের তৈরি সাত দশমিক ৬২ এমএম রাইফেল, এমএম মার্ক টু স্টেনগান, এমএম মেশিন গান ইত্যাদি।

মিলনায়তনের দেয়ালজুড়ে টানানো রয়েছে প্রায় ৫০টি দুর্লভ আলোকচিত্র। এ ছাড়া রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পুস্তক, যুদ্ধের মানচিত্র, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতার অডিও-ভিডিও ক্লিপ, মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্মিত বিভিন্ন প্রামাণ্য চিত্র, আলোকচিত্র, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকাশিত সংবাদপত্রের ক্লিপিংস ইত্যাদি। কাচঘেরা দেয়ালে থরে থরে সাজানো রয়েছে আলবদর, আলশাম্স ও রাজাকার বাহিনীর পরিচয়পত্র। তাতে রয়েছে সেসব ঘৃণ্য বাহিনীর সদস্যদের ছবি, নামধাম-পরিচয়।

প্রদর্শনী উপলক্ষে গতকাল বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মফিদুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। 

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও স্বাধীনতা জাদুঘরের জন্য বেশকিছু স্মারক প্রদান করেছে। দুজন ভারতীয় কিউরেটর এসেছেন যাঁরা স্বাধীনতা জাদুঘর ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের চারটি গ্যালারি সাজাতে সহায়তা করবেন। মহান স্বাধীনতার মাস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

ড. মসিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন শুরু করেন, যা স্বাধীনতা আনার পর শেষ হয়। বাংলার অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অবিচল। তিনি আরো বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসকে প্রতিদিন নতুনভাবে আবিষ্কার করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মারক প্রদানের জন্য তিনি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মফিদুল হক বলেন, একটি ধর্মান্ধতার ভিত্তিতে জন্ম হয় পাকিস্তান নামক দেশের। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এ দেশের মানুষ বহু ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতা অর্জন করে। গর্বের সঙ্গে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ—বাংলাদেশ।

 

মন্তব্য