kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সোনাদিয়ায় ইকো ট্যুরিজম করার পরিকল্পনা বেজার

আরিফুর রহমান   

২৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনাদিয়ায় ইকো ট্যুরিজম করার পরিকল্পনা বেজার

কক্সবাজার থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে মহেশখালীর ৯ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত সোনাদিয়া দ্বীপকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করেছে সরকার। সেখানকার ১৩ হাজার একর এলাকায় ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। গত বুধবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন প্রতীকী মূল্যে বেজার অনুকূলে দীর্ঘ মেয়াদে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজেদের অনুকূলে জমি নিবন্ধনের কাজও সেরে ফেলেছে বেজা।

এদিকে সোনাদিয়া দ্বীপ যেহেতু প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত, তাই এ দ্বীপকে ইসিএ থেকে অবমুক্ত করতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বেজা। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই সোনাদিয়ায় ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বেজার কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্মতি পাওয়ার পর আমরা বেজার অনুকূলে ১৩ হাজার একর জমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করেছি। সোনাদিয়া দ্বীপে বেজা পরিবেশকে অক্ষুণ্ন রেখে ইকো ট্যুরিজম পার্ক গড়ে তুলবে বলে জেনেছি।’ ‘সোনাদিয়া দ্বীপ ইসিএভুক্ত এলাকা’—এ প্রসঙ্গ তুললে আলী হোসেন বলেন, লাল কাঁকড়া, কচ্ছপ আর ডাহুকের কথা বলে দেশকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। জাপান সরকার তাদের দেশে পরিবেশকে ঠিক রেখেই উন্নয়ন করেছে। আমরাও এখানে পরিবেশকে অক্ষুণ্ন রেখে উন্নয়ন করব।’

বেজার একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সোনাদিয়া দ্বীপে ইকো ট্যুরিজম পার্কে বিনিয়োগ করতে দেশের বড় বড় বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বাংলাদেশের একজন পর্যটক থাইল্যান্ডে গিয়ে যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে, তার সবটাই থাকবে সোনাদিয়া দ্বীপে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত ও পরিচিত এমন একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা সেখানে নেওয়ার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে চিকিৎসার জন্য যাতে ভারতসহ অন্য কোনো দেশে না যেতে হয়, সে জন্য করা হবে আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল। সোনাদিয়ায় এখন যেহেতু বিচ্ছিন্নভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয়, সেটি আরো আধুনিক ও পরিবেশসম্মতভাবে করতে আলাদা একটি অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সোনাদিয়ায় কিভাবে রেল সংযোগ দেওয়া যায়, সে চিন্তাভাবনাও শুরু হয়েছে। বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, কক্সবাজারে নাফ ইকো ট্যুরিজম পার্ক, টেকনাফ পর্যটন এলাকার মতো সোনাদিয়া দ্বীপকেও একটি আদর্শ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা। সেখানকার অবকাঠামো উন্নয়নে এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু করেছে।

এর আগে সোনাদিয়ায় একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের প্রতিযোগিতার কারণে ‘কাউকে অখুশি না করার’ নীতি নিয়ে সরকার সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।

জানতে চাইলে এসডিজি বাস্তবায়নবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিবেশকে সুরক্ষা করতে আমরা সোনাদিয়া দ্বীপকে ইকো ট্যুরিজম পার্ক করার উদ্যোগ নিয়েছি, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যেটা করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘সোনাদিয়া দ্বীপে প্রচুর লাল কাঁকড়া আছে। আমরা সেগুলো রাখার ব্যবস্থা করব। সেখানে মানুষ যাতে যেতে পারে, সে জন্য যোগাযোগব্যবস্থা উন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ সমীক্ষার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

সোনাদিয়া দ্বীপকে ইসিএ থেকে অবমুক্ত করতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য তৈরি করা চিঠিতে বেজা বলেছে, ‘পর্যটন শিল্পের জন্য জাতীয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কক্সবাজার জেলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বেজা ইতিমধ্যে টেকনাফ উপজেলায় সাবরাং ও নাফ ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করেছে। এবং পিপিপি মডেলে ওই পার্কের উন্নয়নের জন্য ডেভেলপার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সোনাদিয়া দ্বীপে ইকো ট্যুরিজম পার্ক হবে বলে ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি।’ দ্বীপকে ইসিএ থেকে অবমুক্ত করতে বেজার কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা