kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের মৃত্যু

অবরোধে প্রায় অচল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চবি প্রতিনিধি   

২৮ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবরোধে প্রায় অচল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল রবিবার অবরোধের প্রথম দিন দু-একটি বিভাগ ছাড়া আর কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। চলেনি শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস।

দিয়াজকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে এ অবরোধ ডেকেছে ‘বাংলার মুখ’ নামের এই অংশটি। সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানারে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গত ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসমপাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও তাঁর পরিবার বলছে, সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে এর মিল নেই। দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর পরিবার দাবি করেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে দিয়াজের পরিবার। তাঁর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আদালতে ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবরোধের প্রথম দিন শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দিয়ে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করে এবং কোনো শিক্ষক বাসও চলাচল করতে দেয়নি তারা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কাটা পাহাড় এলাকায় তারা অবস্থান নেয়। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাঙচুর করা হয়। অটোরিকশাচালককেও মারধর করে তারা।

ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দেয়। ফলে সকাল থেকে কোনো ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে তাই বর্তমানে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা হলো দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্তের স্বার্থে প্রক্টরিয়াল বডি থেকে সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনকে অপসারণ, সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নতুন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেশ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘কে বা কারা এ আন্দোলন করছে আমরা জানি না। তবে তারা যদি আমাদের কাছে আসে তাহলে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। খুব শিগগিরই যেন ট্রেন ও শিক্ষক বাস চলাচল করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 



সাতদিনের সেরা