kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গেইল এলেন মাতালেন এবং জিতলেনও

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৮ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গেইল এলেন মাতালেন এবং জিতলেনও

টানা দুই ছক্কা মেরে আফ্রিদির বলেই আউট ক্রিস গেইল। শেষ হাসিটা অবশ্য গেইলের। আফ্রিদির রংপুর রাইডার্সকে যে হারিয়ে দিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। ছবি : মীর ফরিদ

ছুটির দিনগুলো ছাড়া শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরে সামান্যই। দর্শকদের দশরঙা পোশাকের চেয়ে একরঙা চেয়ারগুলোই বরং চোখে পড়ে বেশি। সেই হিসাবে কালকের সন্ধ্যাটিকে ব্যতিক্রম মানতেই হবে। ছুটির দিন না হওয়া সত্ত্বেও গ্যালারিতে শূন্যতার চেয়ে পূর্ণতা বেশি বলে। হবে না? বিনোদনের ফেরিওয়ালা ক্রিস গেইল যে চলে এসেছেন বিপিএলের বারুদে বিস্ফোরণ ঘটাতে!

নাহ্, তেমন আহামরি কিছু করতে পারেননি তিনি। আবার যা করেছেন, তাই-বা কম কী! রংপুর রাইডার্সের ৬ উইকেটে ১২৪ রানের জবাবে গেইল ক্রিজে যান চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সঙ্গী করে। উদ্বোধনী জুটিতে ৯ ওভারে ৭০ রান তুলে খেলার ফল নিয়ে শেষ করে দেন সব অনিশ্চয়তা। জুটিতে গেইলের অবদান ২৬ বলে ৪০ রান। যে ইনিংসের হাইলাইটস দুটি চারের পাশাপাশি চারটি ছক্কা। আর এটি তো সহজেই অনুমেয়, ওই ছক্কা চতুষ্টয়েই ক্যারিবিয়ান দানব পূর্ণরূপে প্রকাশিত।

গেইলের সঙ্গে সোহাগ গাজীর দ্বৈরথের ইতিহাস কারো অজানা নয়। ১২৪ রানের পুঁজিতে লড়াই করতে নেমে প্রথম ওভারেই রংপুর রাইডার্সের ওই অফ স্পিনারের হাতে বল তুলে দেওয়া তাই আশ্চর্যের কিছু না। গেইল অবশ্য বেশ সমীহ করে খেলেন সোহাগকে। অতি উচ্চাভিলাষী দু-একটি এলবিডাব্লিউর আবেদনও হয় তাঁর বিপক্ষে। মুখোমুখি প্রথম ৯ বলে মাত্র ৪ রান নিতে পারেন গেইল। তাতে টানা চার ওভারের স্পেলটা দারুণভাবে শেষ করার পথে ছিলেন অফ স্পিনার। ৩.৪ ওভারে মোটে ১১ রান দিয়ে। ওই সময়ই হয়তো গেইল ভাবেন—এবার কিছু না করলেই নয়! সোহাগের শেষ দুই বলে মারেন বিশাল দুই ছক্কা। রংপুরের সেরা বোলার শহীদ আফ্রিদিকে টানা দুই ছক্কা মারেন প্রথম ওভারেই। কিন্তু তৃতীয় ছক্কা মারতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিয়ে হন আউট। আর কর্মদিবসে স্টেডিয়ামে আসা দর্শকদের অনেকেই যে কেবল গেইলের টানে—ওই ক্যারিবিয়ান দানব আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারি অনেকটা ফাঁকা করে যেন দেন তারই প্রমাণ।

গেইল আউট হলেও চিটাগং ভাইকিংসের জিততে সমস্যা হয়নি এতটুকুন। ফর্ম ফিরে পাওয়া তামিম অপরাজিত থাকেন ৬২ রানে। চার ওভার হাতে রেখেই ৯ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে তারা। বিপিএলে ৯ খেলায় এটি পঞ্চম জয় চিটাগং ভাইকিংসের। ১০ পয়েন্ট নিয়ে রংপুর রাইডার্সের সঙ্গী এখন তারা। রংপুর অবশ্য খেলেছে এক ম্যাচ কম। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে এই দুই দলের ওপরে ঢাকা ডায়নামাইটস ও খুলনা টাইটানস।

এই ঢাকা ডায়নামাইটস কাল দিনের প্রথম খেলায় ৪ উইকেটে হারিয়েছে বরিশাল বুলসকে। সেখানে ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাকিব আল হাসান। আগের দিন হালকাচালে জানিয়ে যান তিনি, ‘গাড়ি-টাড়ি তো দেখা যাচ্ছে না; গাড়ি না থাকলে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়ে লাভ কী!’ প্রথম দুই আসরের মতো এবারও টুর্নামেন্ট সেরা হতে পারবেন কি না, তার উত্তর কেবল সময়ের কাছে। তবে প্রথম সাত রাউন্ডে রেসে শত মাইল পিছিয়ে থাকা সাকিবের প্রত্যাবর্তন প্রবলভাবে। আগের দিনের মতো কালও তো ম্যাচসেরা তিনি! চার ওভারে ৩১ রান দিয়ে মুশফিকুর রহিমের উইকেট শিকারের পর ব্যাটিংয়ে ২১ বলে ২২ রান করার জন্য।

সাকিবের নিজেকে ফিরে পাওয়ার সমান্তরালে ঢাকা ডায়নামাইটসও মাটি খুঁজে পাচ্ছে পায়ের নিচে। চট্টগ্রাম পর্বে শেষ দুটি ম্যাচ হারায় যে জমি আলগা হয়ে যাচ্ছিল। ঢাকায় এসে তারা আবার টানা জিতল দুই ম্যাচ। ৯ খেলায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে বিপিএল টেবিলে সবার ওপরে উঠে গেল ঢাকা ডায়নামাইটস। আর তাতে আগের দিন জয়ের ভিত যদি রচনা করে থাকেন ব্যাটিসম্যানরা, কাল তাহলে সে কৃতিত্ব দিতে হবে বোলারদের। বরিশাল বুলসকে ৬ উইকেটে ১৩২ রানে আটকে রাখার কারণে।

বাজে ফর্মের চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়ার দশা এই বরিশাল দলের। এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচ হারের পর টানা তিন ম্যাচ জিতে যায় তারা চট্টগ্রামে। মুশফিকুর রহিম-শাহরিয়ার নাফীসদের ফর্মের জয়ধ্বনি তখন দশদিকে। কিন্তু এরপর কী যে হলো! আগের মতো রানফোয়ারা ছোটে না ওই দুজনের ব্যাটে। আর তাতে একেবারে দিশেহারা বরিশাল বুলস। টানা পঞ্চম ম্যাচে হারল তারা কাল। তাতে ৯ খেলায় মাত্র ৬ পয়েন্ট পাওয়া দলটির সেরা চারে ওঠা এখন বিশাল প্রশ্নের মুখে।

কাল বরিশালের পরাজয়ে কাঠগড়ায় সেই ব্যাটসম্যানরা। ২০ ওভারে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ১৩২ পর্যন্ত যেতে পারে তারা। সেখানে সর্বোচ্চ ৩৬ রান মুশফিকের। ওপেনিংয়ে নেমে শাহরিয়ার পারেন না ৩ রানের বেশি করতে। ঢাকা ডায়নামাইটসের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন আবু জায়েদ। এই পেসার তাঁর চার ওভারে ১২ রান দিয়ে নেন এক উইকেট।

স্বল্প রানের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে প্রথম ওভারেই ফর্মে থাকা মেহেদী মারুফের উইকেট হারায় ঢাকা। আগের দিনের ভালো ব্যাটিংয়ের আত্মবিশ্বাস থেকেই কিনা নিজেকে তিন নম্বরে তুলে আনেন সাকিব। কুমার সাঙ্গাকারার (৩২) সঙ্গে ৫১ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামলান ভালোভাবে। এই দুজন সাত বলের মধ্যে আউট হয়ে গেলে হাল ধরেন নাসির হোসেন (৩৪) ও মোসাদ্দেক হোসেন (২৩)। দুজনের ৫৫ রানের জুটিতে ফল নিয়ে সব অনিশ্চয়তা প্রায় শেষ। শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পতনেও তাই ভিন্ন কিছু হয়নি। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ডোয়াইন ব্রাভোর বাউন্ডারিতে চার উইকেটে জয় নিশ্চিত হয় ঢাকা ডায়নামাইটসের।

নিশ্চিত হয় প্লে-অফে ওঠার পথে বড় এক পদক্ষেপ নেওয়াও।



সাতদিনের সেরা