kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

ওসিকে দুপুরে সাজা, বিকেলে প্রত্যাহার

রফিকুল ইসলাম ও আজিম হোসেন, বরিশাল   

২৮ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালত অবমাননার দায়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ওসি আদালতে এসে ক্ষমা চাওয়ার পর তাঁর সাজা প্রত্যাহার করা হয়।

গতকাল রবিবার দুপুর ১টার দিকে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ মো. আবু তাহেরের আদালতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওসি আজিজুর রহমান উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গিয়াস উদ্দিন কাবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, বিচারক সকালের আদেশে যে সাজা দিয়েছিলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৪৮৫(এ) ধারা মতে মৌখিকভাবে তিনি বলেছিলেন, গতকাল আদালত চলাকালে বিকেল ৫টার মধ্যে ওসি হাজির হয়ে প্রতিবেদন দাখিল না করলে আদেশ কার্যকর হবে। কিন্তু ওসি বিকেল সাড়ে ৪টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তাই আদালত তাঁর সাজা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সাজা দেওয়ার সময় তিনি (পিপি) এজলাসে উপস্থিত ছিলেন না, তাহলে মৌখিক আদেশের ব্যাপারে তিনি কিভাবে জেনেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে পিপি বলেন, বিশেষ কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচার আইনে বাকেরগঞ্জের কাকরধা গ্রামের কারি মো. ইব্রাহীম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত বছরের ১৮ অক্টোবর  মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামি ওমানপ্রবাসী অহিদুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য শুরু হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।

আদালত পলাতক আসামি অহিদুলের মালামাল ক্রোকের জন্য চলতি বছরের ১৮ জুলাই পরোয়ানা জারি করেন। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান নির্ধারিত দুটি তারিখে এ-বিষয়ক প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেননি। পরে আদালত ওসিকে এ ব্যাপারে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। গতকাল মামলার ধার্য দিন ছিল। কিন্তু নোটিশের কোনো জবাব না আসায় আদালত অবমাননার দায়ে দুপুরে ওসিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক শেখ মো. আবু তাহের।

বিকেলে ওসি আদালতে উপস্থিত হয়ে হাত জোড় করে ক্ষমা চান। তিনি আদালতকে বলেন, মালামাল ক্রোকের কোনো আদেশ থানায় পৌঁছেনি। এমনকি গতকাল মামলার দিন ধার্য থাকার বিষয়টিও তিনি জানতেন না। সাজা দেওয়ার পর আদালত থেকে সহকর্মীরা তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

ক্ষমা চাওয়ার পর বিচারক বলেন, আদালত অবমাননার দায়ে যে সাজা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হলো। পাশাপাশি আগামী ১ ডিসেম্বর ক্রোক পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন বিচারক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রকাশ্যে দেওয়া আদেশ সব সময়ই বহাল থাকে। কিভাবে তা প্রত্যাহার হলো তা তিনি জানেন না।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি ফয়জুল হক ফয়েজ বলেন, মৌখিক আদেশে বিচারক সাত দিনের সাজা দিয়েছিলেন ওসিকে। কিন্তু বিকেলে ওসি আদালতে প্রতিবেদন না দেওয়ার কারণ জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাই বিচারক তাঁর সাজা প্রত্যাহার করে নেন।



সাতদিনের সেরা