kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

২৫ কিলোমিটার যেতেই সবজির দাম দ্বিগুণ

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২৮ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২৫ কিলোমিটার যেতেই সবজির দাম দ্বিগুণ

বাজারগুলো এখন শীতের সবজিতে ঠাসা। দামও একটু কম। তবে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া পাইকারি বাজারে যে সবজির দাম ৩০ টাকা কেজি, ২৫ কিলোমিটার দূরের খুলনার খুচরা বাজারগুলোতে তার দাম দ্বিগুণ; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি।

কৃষক যা বিক্রি করছে কেজিপ্রতি ২৫ টাকায়, ভোক্তা তাই কিনছে ৬০ টাকায়। পাইকারি ক্রেতা হয়ে তিন হাত ঘুরে খুচরা ক্রেতার কাছে পৌঁছতেই দামের এই উল্লম্ফন। এই সবজি রাজধানী ঢাকা বা অন্য কোথাও গেলে দাম হয় আরো বেশি।

গত রবিবার খর্নিয়ার বাজারে কথা হয় টমেটো চাষি শওকত আলী শেখের (৬৫) সঙ্গে। তিনি প্লাস্টিকের ঝুড়িতে টমেটো নিয়ে বসেছিলেন, অপেক্ষা পাইকারি ক্রেতার। দ্রুত টমেটো বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে চান, ক্ষেত পরিচর্যা করতে হবে বলে।

শওকত জানান, তিনি মাছের ঘেরের আইলে টমেটো চাষ করেছেন। প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার ক্ষেত থেকে টমেটো তুলে তিনি খর্নিয়া হাটের সকালের বাজারে তোলেন। বাড়ি বাজারের পাশেই খর্নিয়া গ্রামে।

শুধু শওকত শেখ নন, অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে সবজি তুলে সরাসরি পাইকারি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকারি ক্রেতারা এগুলো খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গা পাইকারি কাঁচা বাজারে বিক্রি করেন। সেখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে খুলনার বাজারগুলোতে। খুচরা বিক্রেতারা এখান থেকে কিনেই বাজারে তাঁদের পসরা সাজান। কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে হাত বদল হয় তিন দফা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, খর্নিয়ায় শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০ টাকা। এর আগে ৪০ এমনকি ৫০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে এই শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, যা খুচরা বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ফুলকপির দাম কেজি প্রতি ২৫ টাকা, যা খুচরা বাজারে ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় অর্ধেক হয়েছে।’ তাঁর দাবি, তিনি এক সপ্তাহ আগে ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ টাকা কেজি, যা এখন ২৫ টাকা। খুচরা বাজারে এর প্রভাব এখনো পড়েনি।

টমেটো কিনে পিকআপ ভ্যানে তুলছিলেন পাইকারি ক্রেতা মশিউর রহমান। তিনি প্রতি কেজি টমেটো কিনেছেন ৪৫ টাকা দরে। খুলনার সোনাডাঙ্গা পাইকারি সবজি বাজারে বিক্রি করবেন তিনি।

মশিউর বলেন, ‘সোনাডাঙ্গায় এই টমেটো কেজিপ্রতি ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হতে পারে। এর কম-বেশিও হতে পারে। এরপর খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে বাজারে তুলবেন। তাঁরাও লাভ করবেন। ফলে ক্রেতা ৮০ টাকার কমে কিনতে পারবে না।’

খুলনার ময়লাপোতা মোড়ের সান্ধ্য বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘খুলনার সোনাডাঙ্গা কাঁচা সবজির আড়ত থেকে বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, ওলকপি কিনে আনি। প্রতি কেজি ফুলকপি কিনেছি ৪৫ টাকা দরে। বিক্রি করছি ৬০ টাকা। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচের কারণে ভোক্তাদের কাছ থেকে দাম বেশি নিতে হয়।’

খুলনা জেলায় উৎপাদিত মোট সবজির ৮০ শতাংশই উৎপাদিত হয় ডুমুরিয়া উপজেলায়। এখানকার অনেক কৃষক আগেভাগে সবজির চাষ করেন, তাঁরা দামও ভালো পান। কৃষকরা আগাম চাষ করা এসব সবজি ইতিমধ্যে বিক্রি করে আবার নতুন করে সবজির চাষ করছেন।

জানতে চাইলে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলার মধ্যে শোভনা, আটলিয়া, খর্নিয়ায় ব্যাপকভাবে সবজির আবাদ হয়। চলতি রবি মৌসুমে (শীত মৌসুম)  চার হাজার  ৫০০ হেক্টর (১ হেক্টর=২.৪৭ একর) জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে।’

কৃষি কর্মকর্তার মতে, কৃষকরা এবার ভালো ফলন পাবেন। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৫ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয়। এই হিসাবে ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদিত হবে বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু উৎপাদিত এই সবজি সংরক্ষণ করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই কৃষকরা কম দামে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।



সাতদিনের সেরা