kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কাউন্সিলের পরও গতি পায়নি বিএনপির স্থায়ী কমিটি

তিনটি পদ এখনো খালি

এনাম আবেদীন   

২৮ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাউন্সিলের পরও গতি পায়নি বিএনপির স্থায়ী কমিটি

কাউন্সিলের পর অবস্থা খুব একটা বদলায়নি। আগের মতোই আছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। ১৯ সদস্যের কমিটিতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ মাত্র ১০ জন সদস্য সক্রিয় আছেন। বাকিদের কেউ অসুস্থ, কেউ দেশের বাইরে। চেয়ারপারসনের সঙ্গে দূরত্বের কারণে কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে আছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে এখনো তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যাঁরা ঘনিষ্ঠভাবে চেনেন তাঁরা কেউ মনে করেন না যে পদ তিনটি সহসা পূরণ হবে।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, সিদ্ধান্তহীনতাই বিএনপির অলংকার। স্থিতাবস্থাই চেয়ারপারসনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। ফলে ওই তিন পদ আগামী বেশ কিছুদিন (কারো কারো মতে কয়েক বছর) খালিই থাকবে।

সিদ্ধান্তহীনতার ক্ষেত্রে বিএনপিতে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে আছে অষ্টম সংসদে সরকারি দলে ও নবম সংসদে বিরোধী দলে থাকাকালে সংসদের একজন উপনেতা নির্বাচন না করতে পারার ঘটনা। প্রায় চার বছর ভারপ্রাপ্ত রাখার পর মহাসচিব করার প্রশ্নে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা, সর্বশেষ কাউন্সিলের পাঁচ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা প্রভৃতি ঘটনা বিএনপিতে সিদ্ধান্তহীনতার নজির।

গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলের আগেও বিএনপিতে বেশ কয়েকটি পদ শূন্য ছিল। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বেশ কয়েকজন নেতা দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তা সত্ত্বেও ওই সব পদ পূরণ করা হয়নি। কাউন্সিলের পর গত ৬ আগস্ট ঘোষিত ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে ১৭ ও ১৮ নম্বর পদ খালি রাখা হয়। শোনা যাচ্ছিল, দুই পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও শর্মিলী রহমানের জন্য পদ দুটি খালি রাখা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর আ স ম হান্নান শাহ মারা গেলে আরো একটি পদ শূন্য হয়।

কাউন্সিলের আগে স্থায়ী কমিটির নেতা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও ড. আর এ গনির মৃত্যুর ফলে দুটি এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তিনটি পদ শূন্য ছিল। বয়সের কারণে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এম শামসুল ইসলাম ও সারোয়ারী রহমান। কাউন্সিলের পর গঠিত স্থায়ী কমিটিতে তাঁদের রাখা হয়নি।

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও এম তরিকুল ইসলাম বয়সজনিত কারণে অসুস্থ। তাঁরা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। জমির উদ্দিন সরকার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মাঝেমধ্যে যোগ দেন, তবে দলের অন্যান্য কর্মকাণ্ডে ততটা সক্রিয় নন। মওদুদ আহমদ মাঝখানে বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। বেশ কয়েক মাস জার্মানিতে থেকে সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন।

মামলাসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির ২ নম্বর সদস্য তারেক রহমান ও ১৯ নম্বর সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সব মিলিয়ে স্থায়ী কমিটিতে ‘সক্রিয়’ নেতার সংখ্যা ১০ জন। খালেদা জিয়াসহ তাঁরা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নেন।

খালেদা জিয়া ছাড়া স্থায়ী কমিটির ‘সক্রিয়’ সদস্যরা হলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তিনি যখন মনে করবেন তখনই ওই সব পদ পূরণ হবে। অন্য কোনো নেতার এটি জানার কথা নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সুবিধাজনক সময়ে চেয়ারপারসন অবশ্যই শূন্য পদগুলো পূরণ করবেন। তাঁর মতে, বিএনপির মতো বড় দলে প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক প্রার্থী থাকাই স্বাভাবিক। তাঁদের মধ্য থেকে যাঁকে অনিবার্য বলে মনে করা হবে তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে কবে হবে তা বলা সম্ভব নয়।



সাতদিনের সেরা