kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

নারী জঙ্গির প্রশিক্ষক

সিরিয়ার বন্ধুদের মাধ্যমেই জঙ্গি হয় রাশেদুজ্জামান

এস এম আজাদ   

২৬ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিরিয়ার বন্ধুদের মাধ্যমেই জঙ্গি হয় রাশেদুজ্জামান

রাজধানীর উপকণ্ঠ টঙ্গীতে র‌্যাবের অভিযানে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নারী শাখার প্রশিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেছে র‌্যাব। এই মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এর আগে চার নারী জঙ্গিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের মামলার মতোই এবারের মামলাটির তদন্ত করতে চায় র‌্যাব। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন বন্ধুর মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল কানাডা ফেরত রাশেদুজ্জামান ওরফে রোজ। এরপর দেশে ফিরে এসে আবদুল হাইয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের আমির মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে। তার মাধ্যমেই জেএমবিতে যোগ দিয়ে নারী প্রশিক্ষক হয়। রোজের সহযোগীদের মধ্যে ফিরোজ আহমেদ শেখ ওরফে আনসার ও সাহাবুদ্দিন ওরফে শিহাব নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) আধ্যাত্মিক নেতা জসিমউদ্দিন রাহমানীর অনুসারী। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে জেএমবির নারী শাখার নেত্রী আকলিমাসহ অনেকে সংগঠনের অর্থ স্থানান্তর করত।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, টঙ্গী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়েরকৃত মামলায় আদালতের নির্দেশে আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এই মামলাটির তদন্ত করার জন্য র‌্যাব আবেদন করেছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুজ্জামান রোজ জানিয়েছে, মাহমুদুল হাসান গ্রেপ্তার হওয়ার পর সে তার স্থলাভিষিক্ত হয়। সে ২০০১ সালে ঝিনাইদহ থেকে এসএসসি ও ২০০৩ সালে এইচএসসি পাস করে। এরপর এমবিবিএস পড়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত হলেও এমবিবিএস না পড়ে ২০০৬ সালে কানাডায় গিয়ে সেন্ট মারিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকে ভর্তি হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত সে কানাডায় অবস্থান করে। কানাডায় অবস্থানের সময়ই সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন বন্ধুর মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। এই বন্ধুদের কয়েকজন হলো আহমেদ কাতিব, মোহাম্মদ কাতিব ও ওমর কাতিব। সূত্র জানায়, ২০১২ সালে রোজ দেশে ফিরে আসে। এরপর পরিবারকে বলে, সে নিজ গ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে এবং ২০১৪ সালে এলাকায় জ্বালানি তেলের ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করে।

র‌্যাব জানায়, রাশেদুজ্জামান রোজের ঢাকার বাসা দক্ষিণ পীরেরবাগের মুক্তি হাউজিংয়ে। তার বাবা খয়বর হোসেন জনতা ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আর মা রাজিয়া ইয়াসমিন মহাখালীতে ক্যান্সার হাসপাতালে কর্মরত। রাশেদুজ্জামান রোজ বিবাহিত, তার স্ত্রী মুক্তা খাতুন (মাহমুদা) বর্তমানে পড়াশোনা করছে। তাদের আট মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ছেলের নাম আবদুর রহমান (শামা)।

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য নিয়ে কাজ চলছে। আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিরোজসহ কয়েকজনের সঙ্গে জসিমউদ্দিন রাহমানীর যোগাযোগ ছিল।

সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সাইফুলের মাধ্যমে জেএমবির নারী জঙ্গিরা অর্থ লেনদেন করত। এ ছাড়া সাইফুল জেএমবি সদস্যদের ভুয়া নামে নেওয়া সিম সরবরাহ করত। আরেক আসামি ফিরোজ ২০১৩ সালের দিকে জসিমউদ্দিন রাহমানীর বইয়ের দোকানে চাকরি করত। ২০১০ সালে সিরাজগঞ্জে বেড়াতে গেলে পরিচয় হয় মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে। তার মাধ্যমে জেএমবিতে দলভুক্ত হয় সে। মাহমুদুলের মাধ্যমে চাকরি নেয় জসিমউদ্দিন রাহমানীর দোকানে। জসিমউদ্দিন রাহমানী গ্রেপ্তার হলে গা ঢাকা দেয় সে। শিহাবও রাহমানীর অনুসারী। 

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাত ও বুধবার ভোরে টঙ্গীর ছয়দানা হাজিরপুকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদুজ্জামান রোজ, সাহাবুদ্দিন ওরফে শিহাব ওরফে রকি, আবদুল হাই, ফিরোজ আহম্মেদ শেখ ওরফে ফিরোজ ওরফে আনসার ও সাইফুল ইসলাম নামে পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ২১ জুলাই জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলীয় আমির মাহমুদুল হাসান ওরফে হাসানকে টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করেন র‌্যাব-১ সদস্যরা। এরপর নারী জঙ্গিদের তহবিল সংগ্রহের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ১৫ আগস্ট গাজীপুরের সাইনবোর্ড ও ঢাকার কয়েকটি এলাকা থেকে আকলিমা রহমান মনি, ইসতিসনা আক্তার ঐশী, খাদিজা পারভীন মেঘলা ও ইসরাত জাহান মৌ নামে চার তরুণীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। রিমান্ডে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ আগস্ট রাজধানীর কলাবাগান থেকে ফুয়াদ আল মাহাদী নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ৪। এই মামলাটি তদন্ত করছে র‌্যাব-৪। চার তরুণী দ্বিতীয় দফায় চার দিন এবং মাহাদীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মন্তব্য