kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজ কবি শামসুর রাহমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আজ কবি শামসুর রাহমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ ১৭ আগস্ট। ‘স্বাধীনতার কবি’খ্যাত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কবি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এ উপলক্ষে কবির পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় কবিতা পরিষদ, শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদ, কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশন ও কবির পরিবারের পক্ষ থেকে বনানী কবরস্থানে কবির কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বিকেল ৩টায় কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশন কবির গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় পাড়াতলী কলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কবি-সাহিত্যিক মিলনমেলার আয়োজন করেছে। এদিকে বিকেল ৩টায় আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংস্কৃতি সংযোগ রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরির সেমিনার অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

কবি শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরার পাড়াতলী গ্রামে। তবে ঢাকায়ই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাই নাগরিক সুখ-দুঃখ তাঁর কবিতায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। জীবনের সত্য-সুন্দরকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। পাশাপশি বাঙালির সব আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবদীপ্ত অধ্যায় ফিরে ফিরে এসেছে তাঁর কবিতায়।

তাঁর লেখা ‘বর্ণমালা, আমার দুখিনী বর্ণমালা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ এসব কবিতার মধ্যে তাঁর বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’, ‘নিরালোকে দিব্যরথ’, ‘আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি’, ‘প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে’ ইত্যাদি। কাব্য, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুতোষ গ্রন্থসহ তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক।

তিনি ১৯৫৭ সালে দৈনিক মর্নিং নিউজ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৭ তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকারের শাসনামলে তিনি দৈনিক বাংলা থেকে পদত্যাগ করেন।

প্রতিবাদী কবি শামসুর রাহমান পাকিস্তান শাসনামলে সরকারি পত্রিকায় কাজ করা সত্ত্বেও আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের প্রতি বিদ্রূপ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাভোগের সময় তাঁকে উদ্দেশ করে তিনি কবিতা লেখেন। রবীন্দ্রসংগীতের ওপর পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদেও তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।

সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার ও সাংবাদিকতার জন্য মিত্সুবিশি পুরস্কার (জাপান) লাভ করেন। এ ছাড়া ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা