kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রদর্শনী

চিত্রকর্মে বন্ধুত্বের জয়গান

নওশাদ জামিল   

১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চিত্রকর্মে বন্ধুত্বের জয়গান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে গতকাল শুরু হওয়া চিত্র প্রদর্শনীতে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও ঢাবি উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুরস্কারজয়ী চিত্রকর্মটির শিরোনাম ‘দুই দেশ, অভিন্ন হৃদয়’। এ দুই দেশ হলো বাংলাদেশ ও ভারত। বন্ধুপ্রতিম দুটি রাষ্ট্রের অভিন্ন হৃদয় হিসেবে চিত্রকর্মে উদ্ভাসিত হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবয়ব। দুটি স্বাধীন দেশেরই জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এই কবি। দুটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নিদর্শন ফুটিয়ে তুলতে ছবিটি এঁকেছেন তরুণ শিল্পী শেখ ফায়জুর রহমান। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক লেনদেন নিয়ে এমন ৫১টি চিত্রকর্ম শোভা পাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে।

শুধু রবীন্দ্রনাথ নন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহাত্মা গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধীসহ দুটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের ছবিও স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। তেমনি উঠে এসেছে দুই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন নিদর্শন নিয়ে চিত্রকর্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের যৌথ আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার শুরু হয়েছে এই বিশেষ প্রদর্শনী।

প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত হয় বিশেষ চিত্র প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী। তাঁরা তিন দিন ধরে ছবি আঁকেন চারুকলা প্রাঙ্গণে। ছবির বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব। একজন শিল্পী প্রদর্শনীর জন্য একটিই ছবি আঁকেন। বিজ্ঞ বিচারকরা এর মধ্য থেকে বাছাই করেন ৫১টি চিত্রকর্ম। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই ৫১টি ছবি থেকে নির্বাচন করা হয় সেরা তিন চিত্রকর্ম। বিজয়ী তিন শিল্পীকে দেওয়া হয় পুরস্কার। পাশাপাশি নির্বাচন করা হয় সম্মাননা পুরস্কারের জন্য পাঁচটি চিত্রকর্ম। সেসব ছবির শিল্পীরাও পান পুরস্কার।

প্রতিযোগিতায় ছবি এঁকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তিন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে প্রথম আরাফাত করিম, দ্বিতীয় শেখ ফায়জুর রহমান ও তৃতীয় পুরস্কার পান অজয় স্যানাল। পুরস্কার হিসেবে তাঁরা পান যথাক্রমে এক লাখ টাকা, ৭৫ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকা। সঙ্গে তিনজনকেই দেওয়া হয় ক্রেস্ট ও সনদপত্র। এ ছাড়া সম্মাননা পুরস্কার পান পাঁচ তরুণ শিল্পী। পুরস্কার হিসেবে তাঁরা প্রত্যেকে পান ১০ হাজার টাকা ও সনদপত্র। গতকাল উদ্বোধনী দিনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘এই চিত্রকর্ম প্রদর্শনী আসলে বাংলাদেশ ও ভারতের নিবিড় বন্ধুত্বের এক দারুণ নিদর্শন। বাংলাদেশের এই তরুণ চিত্রশিল্পীদের আরো বেশি সমর্থন দিতে হবে, উৎসাহ দিতে হবে, যাতে তারা সামনে আরো অনেক সৃজনশীল কাজে উদ্ধুব্ধ হয়।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ঢাকার বারিধারায় নবনির্মিত দূতাবাস ভবন উদ্বোধনের পর প্রদর্শনীর চিত্রকর্মগুলো সেখানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য যে ধরনের সুস্থ পরিবেশ দরকার, তা আদতে নেই। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে জঙ্গিবাদের বিস্তার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের তরুণরা তাতে জড়িয়ে পড়ছে। আমাদের এসব নিয়ে আরো ভাবতে হবে। সৃজনশীল চর্চার মধ্য দিয়েই প্রতিহত করতে হবে জঙ্গিবাদসহ নানা প্রতিক্রিয়াশীল কার্যক্রম।’ ভারতীয় দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল সন্ধ্যায় চারুকলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ চিত্রকর্মের প্রদর্শনী উপলক্ষে ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। বরেণ্য চিত্রশিল্পী, শিল্পসমালোচক, শিল্পসমঝদার, শিক্ষার্থীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা শ্রেণির মানুষ ভিড় জমায়। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষকরাও।

প্রদর্শনীর প্রথম পুরস্কার পায় ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ শিরোনামের চিত্রকর্মটি। তাতে দেখা যায়, দুই দেশের সীমান্তে প্রতিবন্ধক নয়, বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে সীমানা পিলার। কাঁটাতার যদিও দৃশ্যমান, ভেতরে প্রবাহিত দুই দেশের আত্মার প্রতিমাও। চিত্রকর্মটির শিল্পী আরাফাত করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী দেশ। সভ্যতা, কৃষ্টি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগের দিক থেকে দুটি দেশই গভীরভাবে জড়িয়ে। ভূখণ্ড সীমানাপ্রাচীর দিয়ে আলাদা করা হলেও অন্তঃস্রোতের মতো প্রবাহিত দুটি দেশের ঐক্য। চিত্রকর্মে সেই ঐক্যের জয়গান গেয়েছি।’

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, আবুল বারক আলভী, কনকচাঁপা চাকমা ও রণজিৎ দাশ। শিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তরুণ শিল্পীরা সবাই প্রতিভাবান। তাদের চিত্রকর্মে নিরীক্ষার দিকটি বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই তরুণরা ভেবেছে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা বিষয়।’ প্রদর্শনীর সমাপনী দিন ২০ আগস্ট। প্রদর্শনী খোলা থাকছে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।



সাতদিনের সেরা