kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইসিতে আর্থিক প্রতিবেদন জমা

আ. লীগের আয় বেশি ঘাটতিতে বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আ. লীগের আয় বেশি ঘাটতিতে বিএনপি

চার বছর ধরে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি বিএনপির। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি। আর্থিকভাবে বিএনপি সংকটে থাকলেও সচ্ছল অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০১৫ সালের হিসাবে আওয়ামী লীগের তহবিলে উদৃ্বত্ত আছে তিন কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বিএনপির তহবিলে কোনো উদ্বৃত্ত নেই। উল্টো দলটির আয়ের চেয়ে ১৪ লাখ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপির তহবিলে ঘাটতি ১৪ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া দল দুটির হিসাব বিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ২০১৫ সালের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ইসিতে।

আওয়ামী লীগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে দলটি আয় করেছে সাত কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ টাকা। এ সময়ে দলটির ব্যয় হয়েছে তিন কোটি ৭২ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৯ টাকা। অর্থাৎ তহবিলে উদ্বৃত্ত আছে প্রায় তিন কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০১৫ সালে বিএনপির আয় হয়েছে এক কোটি ৭৩ লাখ তিন হাজার ৩৬৫ টাকা। এ সময়ে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৯ টাকা।

ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে গতকাল আওয়ামী লীগের  কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান ও দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ দলের ২০১৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেন। পরে আবদুস সোবহান গোপাল সাংবাদিকদের বলেন, এবার আয়ের চেয়ে ব্যয় কম হয়েছে। দলের সদস্য সংগ্রহ, মাসিক চাঁদা, উপনির্বাচন, অনুদান, মনোনয়নপত্র, বিক্রি, প্রকাশনা খাতে আয় হয়েছে। কর্মচারীর বেতন, অনুষ্ঠান, সভা, প্রকাশনা, ত্রাণসহ নানা খাতে ব্যয় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বছরের শুরুতে তহবিলে ছিল ২০ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ১১৭ টাকা। বছর শেষে তা ২৩ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দলের আয়-ব্যয়ের এ হিসাব অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে ইসি সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম আমিনুল হক সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালে দলের ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৮৪ টাকা ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এবার ঘাটতি সোয়া ১৪ লাখ টাকার মতো, যা আগের হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হবে। বছরের শুরুতে দলের তহবিলে ছিল দুই কোটি ৮৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৫ টাকা। সমাপনী ব্যালান্স দুই কোটি ৭০ লাখ ৬২ হাজার ৪৬১ টাকা।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দলগুলোকে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে দাখিল করতে হয়। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪০। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবার ৩০টি রাজনৈতিক দল হিসাব দাখিল করেছিল। তবে বরাবরের মতো আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ ১০টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করলে নির্বাচন কমিশন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ায়।

ইসিতে দেওয়া আগের প্রতিবেদনগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আয় ছিল ৯ কোটি পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৩ টাকা। আর ব্যয় তিন কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা। ২০১৩ সালে আয় ছিল ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ব্যয় ছয় কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২০১২ সালে দলটির আয় ছিল ১০ কোটি ছয় লাখ টাকা। ব্যয় ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বিএনপির ২০১৪ সালে আয় ছিল দুই কোটি ৮৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭৪ টাকা। ব্যয় হয় তিন কোটি ৫৩ লাখ তিন হাজার ৫৯০ টাকা। সে বছর ৬৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৬ টাকা তাদের বেশি ব্যয় হয়। ২০১৩ সালে তাদের  ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৬২ টাকা, আর আয় ছিল ৭৫ লাখ পাঁচ হাজার ৭৬২ টাকা। ২০১২ সালে বিএনপির আয় ছিল এক কোটি ৭৯ লাখ ১২ হাজার ২৩১ টাকা। আর ব্যয় ছিল দুই কোটি ২৬ লাখ ৯৩ হাজার ১৪৩ টাকা। ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১০ সালে বিএনপির ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি দেখানো হয়েছিল। দলটির ইসিকে দেওয়া তথ্য মতে, ওই বছর তাদের ব্যয় হয়েছিল এক কোটি ১০ লাখ ১৮ হাজার ২১৪ টাকা। আর আয় হয়েছিল দুই কোটি ৪৯ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৬ টাকা। এর পর থেকেই দলটির আর্থিক প্রতিবেদনগুলোতে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি দেখানো হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা