kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

কক্সবাজারে দুজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

সাতক্ষীরায় একজন গুলিবিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কক্সবাজারে দুজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় গতকাল সোমবার ভোরে দুটি ডাকাতদলের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছে। এর আগে রবিবার গভীর রাতে জেলার রামু উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে আরো একজন। নিহত দুজনই ডাকাতদলের সদস্য বলে পুলিশ দাবি করেছে।

রবিবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের পাশে রসুলপুর গ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ হয়েছে একজন। আহত এই ব্যক্তি মাদক কারবারি বলে দাবি করেছে পুলিশ। এর আগে শনিবার গভীর রাতে জেলার শ্যামনগর উপজেলায় একইভাবে বিএনপির এক নেতা নিহত হন। যদিও তাঁর পরিবার দাবি করেছে, সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের পর রাতে তাঁকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে বলে প্রচার করছে।

উল্লেখ্য, কেবল জুন মাসেই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অন্তত ২০ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন সন্দেহভাজন জঙ্গি। বাকিরা ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি।

কক্সবাজার : মহেশখালীতে নিহত ডাকাত সরদার ফরিদুল আলম (৪০) দ্বীপের কালারমার ছড়ার উত্তর নলবিলার মৃত বদিউল আলমের ছেলে।

মহেশখালী থানার ওসি বাবুল চন্দ্র বণিক জানান, গতকাল ভোর ৫টার দিকে উপজেলার কালারমার ছড়ার মাইজপাড়ার পাহাড়ি এলাকায় ফরিদুল আলম ও সেফুর নেতৃত্বাধীন বিবদমান দুটি ডাকাতদলের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মহেশখালী থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফরিদুলের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ সময় একটি একনলা বন্দুক ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরো জানান, নিহত ফরিদুলের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্রসহ ২৪টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে রামু থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানিয়েছেন, রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রামু চা বাগান এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির সংবাদ পেয়ে টহল পুলিশের একটি দল ডাকাতদের ঘিরে ফেলে। এ সময় ডাকাতের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়। ঘটনাস্থলে জসিমুদ্দিন খোকন (৩৫) নামের একজন ডাকাত নিহত হয়। আহত হন চার পুলিশ সদস্য। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

ওসি প্রভাষ আরো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতটি অস্ত্র ও ৭০টি গুলি উদ্ধার করেছে। নিহত জসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে রামু ও কক্সবাজার সদর থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে।

সাতক্ষীরা : রবিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের পাশে রসুলপুর গ্রামের হাজিরবেড়ের আব্দুল গফুরের আমবাগানে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে জাহাঙ্গীর আলম (২০) নামের একজন মাদক কারবারি। তিনি সাতক্ষীরা শহরের মধু মোল্লারডাঙি এলাকার মফিজুল সরদারের ছেলে।

পুলিশ দাবি করেছে, জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ১৪৫টি ইয়াবা ও দুই বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের তথ্য ও গণসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন খান জানান, সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক রাকিব হাসান ও সহকারী উপপরিদর্শক পাইক  দেলোয়ার পলাশপোল এলাকায় টহলে ছিলেন। রসুলপুরের হাজিরবেড়ের আব্দুল গফুরের আমবাগানে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে—এমন খবরের ভিত্তিতে তারা রাত সোয়া ১টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের টহলদলটি সেখানে পৌঁছলে তাদের ওপর সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে এক ব্যক্তি আহত হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। 

তবে জাহাঙ্গীরের মা মধুমোল্লারডাঙির খোদেজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলে তালা উপজেলার ত্রিশ মাইল এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করে। ঈদের ছুটিতে সে শ্বশুরবাড়ি রসুলপুরে যায়। রবিবার রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল লাগোয়া একটি মোটর গ্যারেজের পাশের একটি মাদকের আস্তানা থেকে পুলিশ জাহাঙ্গীরসহ চারজনকে আটক করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে জাহাঙ্গীরের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে গুলি করেছে পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা