kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে

মার্গারেট থ্যাচারের পর আবারও নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান মনোনীত হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে। প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড় থেকে জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যান্ড্রিয়া লিডসম গতকাল সোমবার সরে দাঁড়ানোর পর টেরেসার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়। 

প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আগামীকাল বুধবার রানির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করবেন। আর আগামীকালই শপথ নেবেন টেরেসা।

গতকাল ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়ির সামনে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্যামেরন বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) আমি শেষবারের মতো আমার মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেব। বুধবার হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নেব। এরপরই প্রাসাদে গিয়ে পদত্যাগ করব।’ ৫৯ বছর বয়সী টেরেসা ২০১০ সাল থেকেই ক্যামেরনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের থেকে যাওয়ার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন তিনি।

আর ব্রেক্সিটের পক্ষে ছিলেন অ্যান্ড্রিয়া। সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ব্রিটেনের এখন শক্তিশালী, স্থিতিশীল সরকারের প্রয়োজন। আর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে টেরেসাই হচ্ছেন সবচেয়ে যোগ্য মানুষ।’ এর আগে গত রবিবার একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মা হওয়ার কারণেই এই পদে তিনি যোগ্যতর প্রার্থী। প্রসঙ্গত টেরেসা মের কোনো সন্তান নেই। অ্যান্ড্রিয়ার এই মন্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে গতকাল বার্তা পাঠিয়ে টেরেসার কাছে ক্ষমা চান তিনি। টেরেসাও তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা পাঠান। শেষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে টেরেসার সাফল্য কামনা করেন অ্যান্ড্রিয়া।

এর আগেই দলের ৬০ শতাংশ এমপির সমর্থন পেয়ে কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান নির্বাচিত হন টেরেসা। বাকি ছিল দলের সমর্থকদের ভোট। তার আগেই অ্যান্ড্রিয়া সরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিকে সহজ করে দিলেন।

সাধারণভাবে ধারণা করা হতো, ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোটের পর যিনি ক্ষমতা গ্রহণ করবেন তাঁকেও এর পক্ষের প্রচারক হতে হবে। তবে সে ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন টেরেসা। তিনি বলেন, ‘ব্রেক্সিট মানে ব্রেক্সিটই। আমরা সফলভাবে বিষয়টি সম্পন্ন করব।’

টোরিদের (কনজারভেটিভ পার্টি) নেতৃত্বের বিষয়টি নির্ধারণ করে ‘১৯২২ কমিটি’। টোরি এমপিদের নিয়ে এ কমিটি গঠিত। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর টেরেসাকে নেতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই কমিটি একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেবে। সে ক্ষেত্রে ক্যামেরনের উত্তরসূরি নির্ধারণের জন্য ৯ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে না। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে গতকাল শেষ হওয়া এই প্রক্রিয়া আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে লেবার পার্টিতে টনি ব্লেয়ারের কাছ থেকে গর্ডন ব্রাউনের ক্ষমতা গ্রহণের সময় পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় লেগেছিল ৩৮ দিন। তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের পক্ষে রায় যাওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ক্যামেরন ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। এর পরই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্ষমতাসীন দলে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার এই দৌড়ে প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটাভুটিতে ঝরে পড়েন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স এবং কর্ম ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্র্যাব।

কনজারভেটিভ দলের নেতা নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী দুইয়ের বেশি প্রার্থী হলে দলের এমপিরা ভোটাভুটি করে সেই প্রার্থী সংখ্যা দুইয়ে নামিয়ে আনেন। এরপর দলের সাধারণ সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় দেড় লাখ সদস্য রয়েছেন। তবে এবার আর প্রক্রিয়া সে পর্যন্ত গড়াল না।

রানির দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি বিরল নয়। ব্রিটেনের ইতিহাসে লৌহমানবীখ্যাত মার্গারেট থ্যাচারের পর দ্বিতীয়বারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন টেরেসা। বর্তমানে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিতে নারী পার্লামেন্ট সদস্যের সংখ্যা ৬৮ জন। হাউস অব কমন্সে তাঁদের মোট সদস্য ৩৩০ জন। তবে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে বিরোধী দল লেবার পার্টি। তাদের ২৩০ জন এমপির মধ্যে নারী ৯৯ জন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা