kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

নেপালে প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেপালে প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি

নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুশীলা কার্কিকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্টারি হিয়ারিং স্পেশাল কমিটি (এনপিএইচএসসি)। গত রবিবার কমিটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ৬৪ বছর বয়সী সুশীলা বেশ কিছুদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নারী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের মধ্য দিয়ে দেশটির তিন বিভাগের প্রধান হিসেবে নারীরা দায়িত্ব পাচ্ছেন। নেপালের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দেশটির সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অনসারি ঘার্তি মাগার।

ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুশীলাকে শপথ পড়াবেন। ২০১৭ সালের ৬ জুন পর্যন্ত সুশীলা নেপালের বিচার বিভাগকে নেতৃত্ব দেবেন।

চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির পদ থেকে কল্যাণ শ্রেষ্ঠ অবসর নেওয়ায় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুশীলাকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এপ্রিল মাসেই সুশীলাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপারিশ করেছিল সাংবিধানিক কাউন্সিল। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে সম্পদ নিয়ে লুকোছাপা এবং ‘দলীয় সংযোগ’সহ ছয়টি অভিযোগ আনেন আইনজীবী স্বপ্না মাল্লা প্রধান। অভিযোগে তিনি বলেন, সুশীলা একসময় কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) সংসদ সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া নেপালের বিরাটনগরে তাঁর থাকা সম্পদের বিষয়টি লুকিয়েছেন।

সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সংসদীয় বিশেষ প্যানেল এনপিএইচএসসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত রবিবার প্যানেলের সামনে সুশীলা সব কটি অভিযোগের ‘সন্তোষজনক জবাব’ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান এনপিএইচএসসির চেয়ারম্যান কুল বাহাদুর গুরুং। 

গুরুং জানান, সুশীলা তাঁর সম্পদের বিবরণ পেশ করেছেন। আর ‘আনুপাতিক কোটা’য় কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) সংসদ সদস্য হওয়া নিয়ে জবাব দিয়েছেন সুশীলা কার্কি নিজেই। সুশীলা বলেছেন, ‘আমি ছাত্র অবস্থায় নেপালি কংগ্রেসের মোরাং জেলার প্রেসিডেন্ট ছিলাম। এগুলোর কোনোটাই আমাকে পার্টি ক্যাডার হিসেবে উপস্থাপন করে না।’

সংসদীয় প্যানেলকে সুশীলা দ্রুত ‘ঝুলে থাকা’ ১১ বিচারকের নিয়োগ সম্পন্ন করারও অনুরোধ জানিয়েছেন। ওই প্যানেলের হাতে বিচারক নিয়োগ ছাড়াও ২১ জন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়টি বিচারাধীন। গত শুক্রবার একই প্যানেল আয়োদি প্রসাদ যাদবকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সর্বসম্মত মনোনয়ন দিয়েছে। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে সুপরিচিত সুশীলা ১৯৭৯ সালে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। বানারসের হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা এ বিচারককে ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে চুক্তিভিত্তিক বিচারক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরের বছর তাঁর চাকরি স্থায়ী হয়। বিচারক থাকাকালে সাত বছরে মোট আট হাজার ৭৬৫টি মামলার রায় দিয়েছেন সুশীলা। এর মধ্যে আছে মায়ের পরিচয়ে সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টিও। এর আগে কেবল বাবা নেপালের নাগরিক হলে সন্তানরা নেপালের নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন করতে পারত। সুশীলার হাতে বিচারের জন্য আরো ৭৩৫টি মামলা রয়েছে। সূত্র : কাঠমাণ্ডু পোস্ট, হিমালয়ান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা