kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

এমপি হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এমপি হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

জাতীয় পার্টির নেতা ও ময়মনসিংহ ত্রিশালের এমপি আব্দুল হান্নানসহ আট রাজাকারের বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গতকাল সোমবার সকালে ধানমণ্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দুপুরে সেটি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে ওই আট রাজাকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও লাশ গুমের পাঁচটি অভিযোগ উঠে এসেছে।

এই মামলার আট আসামির মধ্যে এমপি হান্নানসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্য চারজন হলেন এমপি হান্নানের ছেলে রফিক সাজ্জাদ, সে সময় হান্নানের সহযোগী মিজানুর রহমান মিন্টু, ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির ও হরমুজ আলী। পলাতক তিন রাজাকার হলেন মো. ফখরুজ্জামান, মো. আব্দুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রব্বানী।

মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জানান, কাল (আজ মঙ্গলবার) এই প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে দাখিলের জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় চাওয়া হবে।

গতকাল সকালে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান, জ্যেষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা সানাউল হক ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই আট রাজাকার মুক্তিযুদ্ধকালীন ত্রিশালে বিভিন্ন জায়গায় হত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে। সম্মেলনে জানানো হয়, এই আটজনের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ হলো একাত্তরের ২৩ ও ২৪ এপ্রিল ময়মনসিংহের গোলকীবাড়ী বাইলেনের ভাস্কর আব্দুর রশিদকে অপহরণ, পরে গাড়ির পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে নির্মমভাবে হত্যা ও লাশ গুম। ২ নম্বর অভিযোগ, একাত্তরের ২ আগস্ট ত্রিশাল থানার বৈলর হিন্দুপল্লী ও মুন্সিপাড়ায় অগ্নিসংযোগ, সেন্টুকে গুলি করে হত্যা ও দুজন হিন্দুকে গুলি করে আহত, শহীদ আ. রহমানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যার ঘোষণা। ৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ৭ থেকে ৯ আগস্টের মধ্যে বৈলরের আ. রহমান মেম্বারকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম। ৪ নম্বর অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে খন্দকার আব্দুল আলী রতনকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম। তদন্ত প্রতিবেদনে সর্বশেষ অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ২৩ এপ্রিল থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মো. আবেদ হোসেন খানকে আটক, নির্যাতন ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর। এ ছাড়া ৭ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে কে এম খালিদ বাবুকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই আট রাজাকার ময়মনসিংহ শহরের জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল, অভিযুক্ত এম এ হান্নানের রামবাবু রোডের ৫৯ নম্বর বাড়িকে টর্চারসেল হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গত বছরের ১৯ মে ত্রিশালের বইলরের রহিমা খাতুন তাঁর স্বামী শহীদ আবদুর রহমানকে হত্যার দায়ে এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটি পরবর্তী সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। গত বছরের ১ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলার আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এমপি হান্নান ও তাঁর ছেলে রফিক সাজ্জাদ ওই দিনই ঢাকা থেকে পরে বাকি তিনজন ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা