kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

রংপুরে খাদেম হত্যাকাণ্ড

জেএমবির ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

রংপুর অফিস   

১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেএমবির ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

গত ৩ জুলাই রংপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম মোসতাক আহমেদের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন কাউনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মামুন অর রশিদ।

আট দিন আগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ গতকাল সোমবার সকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আট মাস তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায়ও নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী জেএমবির আট সদস্যের বিরুদ্ধে গত ৩ জুলাই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয় গত রবিবার।

খাদেম হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা হলো জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার রংপুরের পীরগাছার বাসিন্দা মাসুদ রানা (৩৩), চান্দু মিয়া (২০), ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া (৩২) ও আবু সাঈদ (২৮), দিনাজপুরের বিরামপুরের সরোয়ার হোসেন (৩৩), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাদাত হোসেন (২৩) ও তৌফিকুল ইসলাম (৩৫), একই জেলার সাঘাটা উপজেলার জাহাঙ্গীর হোসেন (২৬) ও সাখাওয়াত হোসেন (৩০), বগুড়ার শাহজাহানপুরের রাজিবুল ইসলাম (২৫) ও বাবুল মাস্টার (৩৫), কুড়িগ্রামের রাজারহাটের সাদ্দাম হোসেন (২১), পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের নজরুল ইসলাম (২৬)।

তাদের মধ্যে সাতজন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায়ও অভিযুক্ত। তারা হলো মাসুদ রানা, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ, সাদ্দাম হোসেন, নজরুল ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন।

অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল খালেক জানান, আসামিরা সবাই জেএমবির সক্রিয় সদস্য।

তদন্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ জানান, কারাগারে যে সাতজন রয়েছে তারা হলো মাসুদ, ইছাহাক, লিটন, সাঈদ, সরোয়ার, সাদাত ও তৌফিকুল। পলাতক দেখানো জেএমবি সদস্যরা হলো জাহাঙ্গীর, সাখাওয়াত, বাবুল, রাজিবুল, সাদ্দাম, নজরুল ও চান্দু।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের চৈতারমোড় এলাকায় কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় সুরেশ্বরীর মাজার শরিফের পরিচালক রহমত আলীকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মামুন অর রশীদ জানান, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানার নেতৃত্বে কয়েকজন জেএমবি সদস্য রহমত আলীকে এলোপাতাড়ি কোপানোর পর গলা কেটে হত্যা করে চলে যায়। মাসুদ রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

খাদেম হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার আব্দুস ছাত্তার মাওলানার ছেলে মোর্শেদ আলী (৩৬) ও তাঁর ভাতিজা শহিদুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তারা দুজনই কাউনিয়ার মধুপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মোর্শেদ ও শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্তে তাদের জড়িত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগপত্রে তাদের নাম রাখা হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা