kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

মুগারচরে বিক্ষোভ

রিমান্ডে ৪ আসামি

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুগারচরে বিক্ষোভ

স্কুল ছাত্র মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (১১) হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে কেরানীগঞ্জের মুগারচরে। শুক্রবার মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণের পর শিশুকে হত্যা করে লাশ ড্রামে ভরে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রতিবেশী ও আত্মীয় মোতাহার হোসেনের বাড়ির ছাদ থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। তবে মোতাহারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। লাশ উদ্ধারের আগে ও পরে পুলিশ তার ছেলেমেয়েসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল বুধবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে শিশু আব্দুল্লাহর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টামূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল দফায় দফায় মিছিলসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এলাকাবাসী। এ অবস্থায় সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

গতকাল বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে আব্দুল্লাহর লাশ নেওয়া হয় মুগারচরে। শোকার্ত ও ক্ষুব্ধ মানুষের ভিড় জমে তাদেও  বাড়ি ঘিরে। বিকেল ৪টায় পশ্চিম মুগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। আব্দুল্লাহ এ স্কুলেরই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। সন্তানহারা মা-বাবাকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৫ দিনের মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে এবং তিন মাসের মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমি যা দরকার হবে করব। ব্যক্তিগতভাবে এ মামলার তদারকি করব।’

আব্দুল্লাহর বাবা প্রবাসী বাদল মিয়া ও মা রিনা বেগমকে সমবেদনা প্রকাশের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানায়, নিকটাত্মীয় হয়েও মোতাহার অর্থের লোভে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মুক্তিপণের টাকা পেয়েও ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে হত্যা করেছে শিশুটিকে। মোতাহার ২০০৪ সালে সিঙ্গাপুরে গিয়ে শ্রমিকদের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করত। তখন সেখান থেকে শ্রমিকদের বেতনের তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দেশে চলে আসে বলে অভিযোগ আছে। এরপর সৌদি আরবে গিয়ে সেখান থেকে পাঁচ-ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশে চলে আসে। দেশে কোনো কাজকর্ম না করে সে আলিশান বাড়ি তৈরি করে। বাড়িটিতে লাগানো আছে সিসি ক্যামেরা। আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার হয়েছে এ বাড়ি থেকেই। মোতাহার নিহত স্কুল ছাত্র আব্দুল্লাহর মা রিনা বেগমের বড় মামা। অর্থলোভে সে প্রতিবেশী ও স্বজনের এত বড় সর্বনাশ করতে পিছপা হয়নি। মঙ্গলবার লাশ উদ্ধারের পর এলাকাবাসী দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ওই বাড়িতে। বাড়ি ও দোকানঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। গতকাল তার গ্রেপ্তার দাবিতে মিছিল হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি ফেরদাউস হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় জড়িতদের সকলের পরিচয় ও ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হচ্ছে। মূল অভিযুক্ত মোতাহারকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

৪ আসামির রিমান্ড : আদালত প্রতিবেদক জানান, শিশু আব্দুল্লাহকে অপহরণ ও হত্যার চার আসামিকে গতকাল ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ হাজির করা হয়েছিল ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার নিপুর আদালতে। আসামি মেহেদী হাসান (১৯), খোরশেদ আলম (৩০), আল আমিন আহাম্মদ (১৮) ও মিতু আক্তার বেগমকে (২২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মোতাহারের ছেলে মেহেদীর জন্য সাত দিন এবং অন্যদের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই শফিকুল আলম আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যেই মোতাহারের বাড়ির ছাদে লাশ পাওয়া গেছে। পরে মিতুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা কেন, কখন ও কিভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত পলাতকদের গ্রেপ্তার করতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবির বাবুল। আসামিদের পক্ষে ছিলেন ফকির আবদুল মান্নান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা