kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

পদ্মা সেতুর মূল কাজে অগ্রগতি ১৩.৫ শতাংশ

আবুল কাশেম   

৪ অক্টোবর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগিয়ে চলেছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কাজ। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ, নদীশাসন- সবই ঠিকমতো হচ্ছে। গত আগস্ট পর্যন্ত মূল সেতুর ১৩.৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে চললে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের আগেই সেতু চলাচলের জন্য উন্মুুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, গত বছরের নভেম্বরে মূল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। আগস্ট পর্যন্ত ১৩.৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ অর্ধেক হয়ে গেছে। এভাবে চললে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এক কমিটি পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যালোচনা করে। কমিটির পরবর্তী বৈঠকের জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এতে সাতটি প্রকল্পের বাস্তবায়নবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্ট পর্যন্ত দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। পশ্চিম পাড়ে জাজিরা সংযোগ সড়ক নির্মাণ ৪৮.৫ শতাংশ এবং পূর্ব পাড়ে মাওয়া সংযোগ সড়ক নির্মাণ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং নদীশাসন বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে আগামী শীত মৌসুমে। শুষ্ক মৌসুমে প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
সর্বশেষ অগ্রগতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদীশাসনের কাজ আগস্ট পর্যন্ত ৮.৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এর জন্য তিনটি ড্রেজার, তিনটি অ্যাংকর বোট, একটি টাগ বোট, একটি মাল্টিপারপাস জাহাজ ও ২৫টি কনটেইনারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়োজিত আছে।
সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ২৪ হাজার কোটি টাকা। আগস্ট পর্যন্ত খরচ হয়েছে আট হাজার ৩৬৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাত হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর থেকে ছাড় করা হয়েছে এক হাজার ৭৯৬ কোটি দুই লাখ টাকা।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ওই সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবদের অংশগ্রহণে বৈঠক হয়। সেখানে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২৫ শতাংশ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে।
প্রসঙ্গত, মূল সেতু নির্মাণের ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানির সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, কাজ শুরুর এক হাজার ৪৬০ দিনের (চার বছর) মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে। মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে গত বছরের ১ নভেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ হিসাবে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে মূল সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা।