kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

সমুদ্রপথে মানব পাচার রোধে টাস্কফোর্স হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবপাচার রোধে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রবাসীকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মানবপাচার রোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিচ্ছে জানিয়ে গতকাল শবিবার বিকেলে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এত হুঁশিয়ারি ও সতর্কতার পরও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। এর ফলে দেশে-বিদেশে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এখন জরুরি। বিষয়টি আমি চলতি মাসেই আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিতে উত্থাপন করব, চেষ্টা থাকবে দ্রুতই টাস্কফোর্স গঠন করার।' প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরো বলেন, 'সম্প্রতি থাইল্যান্ডের গণকবর থেকে কিছু বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। মানবপাচারের শিকার মানুষগুলোর এ পরিণতি আমাদের স্তম্ভিত করেছে। মানবপাচার রোধে সরকার আরো কঠোর হবে। পাচারকারীদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তে যেতে হবে সরকারকে।'

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, 'থাইল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টাতেই এ অপকর্মগুলো উদ্ঘাটিত হয়েছে এবং তাদের সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি।' তিনি বলেন, "আমরা কিছু তথ্যের জন্য এখনো অপেক্ষায় আছি, যেগুলো সেখানে গেলেই বোঝা যাবে। থাইল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেরা তদন্ত শেষ করেই বাংলাদেশকে 'অ্যাকসেস' দেবে।" তিনি আরো বলেন, থাইল্যান্ডে যারা আটকা পড়েছে বা পাচারের শিকার হয়েছে তারা যে বাঙালি বা বাংলাদেশি, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ বৃহৎসংখ্যক অন্য দেশের নাগরিকের এভাবে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার অতীত ইতিহাস আছে।

জানা গেছে, জলদস্যু, সন্ত্রাসী বাহিনী আর দালালের যোগসাজশে চলছে উপকূলে মানবপাচারের রমরমা বাণিজ্য। কক্সবাজারের বিভিন্ন উপকূল হয়ে সমুদ্রপথে প্রতিদিন মানবপাচার হচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও মানবপাচার থামনো যাচ্ছে না। আগে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার মানুষ নৌকায় করে মালয়েশিয়া যাত্রা করত। এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ যাচ্ছে।

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় কিছু মানুষ থাইল্যান্ড পৌঁছে মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করে গন্তব্যে পৌঁছালেও অনেকেই ট্রলারডুবির ঘটনায় মারা যাচ্ছে। অনেকে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। তাদের ঠাঁই হচ্ছে থাইল্যান্ডের জঙ্গলের গণকবরে। আবার অনেকে ধরা পড়ে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। গতকাল শনিবার থাইল্যান্ডের জঙ্গল থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১১৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। এদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি নাগরিক।



সাতদিনের সেরা