kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিকের লাগেজে ২৭ কেজি সোনা

রাতে আটক, সকালে মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উত্তর কোরিয়ার এক কূটনীতিকের লাগেজ থেকে ২৭ কেজি সোনা আটক করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (ইকোনমিক) সন ইয়াং ন্যামকে (৪০) গত বৃহস্পতিবার রাতে আটক করেন কাস্টম ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কর্মকর্তারা। সন ইয়াং ন্যামের লাগেজ তল্লাশি করে ১৭০টি সোনার বার (১৯ কেজি) ও আট কেজি ওজনের স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে কাস্টম, এপিবিএন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা দফায় দফায় বৈঠক করেন। কাস্টম কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দরে কোনো কূটনীতিকের লাগেজ থেকে সোনা উদ্ধারের ঘটনা এটাই প্রথম। এ ঘটনায় কূটনীতিকদের মাধ্যমে সোনা চোরাচালানের নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কয়েকজন কাস্টম কর্মকর্তা বলেন, কূটনীতিকদের লাগেজ স্ক্যান করার নিয়ম নেই। এই সুযোগ নিয়ে তাঁরা যদি সোনাসহ অবৈধ পণ্য আনেন তাহলে সেটি দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আন্তর্জাতিক চুক্তির কারণে কূটনীতিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই সন ইয়াং ন্যামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রচলিত আইন ও নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে আমরা এ বিষয়ে আপনাদের জানাব।'

কাস্টমের যুগ্ম কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, 'আমরা চোরাই সোনাগুলো রেখে তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছি। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি কোনো কূটনীতিককে দায়িত্বরত অবস্থায় কোনো অভিযোগ বা মামলায় আটক রাখা যাবে না।' তিনি আরো বলেন, 'ঘটনাটি ভীষণ উদ্বেগজনক। কূটনীতিকের লাগেজ তল্লাশি করার নিয়ম নেই। তিনি প্রথমে পরিচয় না দেওয়ার কারণেই সোনার চালানটি ধরা পড়ল।'

কাজী জিয়া উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (এসকিউ-৪৪৬) করে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছান সন ইয়াং ন্যাম। এরপর গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাঁর আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। কাস্টম ও এপিবিএন কর্মকর্তারা তাঁকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি তাঁর লাগেজ স্ক্যান করতে বাধা দেন। পরে তাঁর লাগেজ থেকে সোনাগুলো উদ্ধার করা হয়। লাগেজে ১৯ কেজি সোনার বার এবং বাকি আট কেজি গয়না ছিল, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা।

এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) তানজিনা আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'রাতে চার কূটনীতিক সন ইয়্যাং ন্যামকে রিসিভ করতে আসেন। পরে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে।'

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, লাগেজ স্ক্যান করতে চাইলে সন ইয়াং নিজের পরিচয় না দিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, এটি কূটনৈতিক লাগেজ, তাই স্ক্যান করা যাবে না। একপর্যায়ে তিনি দ্রুত গ্রিন চ্যানেল পার হয়ে যান। পরে এপিবিএন সদস্যরা তাঁকে আটক করে তাঁদের অফিসে নিয়ে যান। ওই সময় সেখানে যান উত্তর কোরিয়ার আরো চার কূটনীতিক। তাঁরা হলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার মুন সং হো, ফার্স্ট সেক্রেটারি কো চো মিন, থার্ড সেক্রেটারি রি চোল সান এবং ডেপুটি চিফ অব মিশন কেং কিং। তাঁরাও নিজেদের পরিচয় না দিয়ে ন্যামকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাস্টম কর্মকতাদের চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কাস্টমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান। লাগেজে সোনা পাওয়ার পর ওই পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে কাস্টমস হলে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা নিজেদের উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক বলে পরিচয় দেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর কূটনীতিকরা নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে পুলিশ ও কাস্টম কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে যান। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়।

গতকাল সকাল থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, এপিবিএন কর্মকর্তা, কাস্টম কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেন। দুপুরে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী সোনাগুলো জব্দ করে ওই পাঁচ কূটনীতিককে ছেড়ে দেন তাঁরা।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা